নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্যানিং স্ট্রিটে মুখোমুখি প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী। দু’জনে মিটিমিটি হাসছেন। হাতের কব্জিতে টাইট করে বাঁধা পড়বেন তাঁরা। সেখান থেকে হাসিমুখে ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেবেন। ভাই-বোনের সম্পর্কের অটুট বন্ধনের প্রতীক মণিবন্ধের রাখিতে নরেন্দ্র মোদি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহাস্য উপস্থিতি। বড়বাজারে দেদার বিকোচ্ছে।
অনেকে আবার ভাই-বোনের সম্পর্কের মধ্যে রাজনীতি আনতে চান না। তাঁদের জন্য যেমন প্রতিবছর থাকে, তেমন হরেক কিসিমের রাখি রেখেছেন বড়বাজারের বিক্রেতারা। এই বছরের নয়া আবিষ্কার ‘পিপুল পাতার রাখি’। পাতা শুকিয়ে, রং দিয়ে ডাই করে সেই রাখি তৈরি হয়েছে। ব্যাপক বিক্রি। আর অল্পবয়সিদের জন্য তো হরেক রকমের রাখির কোনও অভাবই নেই। লাইট জ্বলা, ছোটা ভীম, ডোরেমন, আয়রন ম্যান সব রয়েছে বাজারে।
রাখি পূর্ণিমার সপ্তাহখানেক বাকি থাকতেই কারখানাগুলির স্টক কার্যত ফাঁকা। সব প্রায় পাইকারি থেকে খুচরো বাজারের পথে। বড়বাজার-ক্যানিং স্ট্রিটজুড়ে এখন শেষ মুহূর্তের কেনাবেচা চলছে। পাইকারি বাজারের এক ব্যবসায়ীর কথায়, ‘চিরাচরিত রাখির বিক্রি তো আছেই। এ বছর পিপুল পাতার রাখি বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে। এগুলো সব আমাদের এখানেই তৈরি।’ পাইকারি বাজারে এর দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা। এছাড়া আরও সস্তার রাখি রয়েছে। বাচ্চাদের পছন্দের নানা রকমের রাখি এই বছরের হট কেক। ডোরেমন, আয়রন ম্যান, ছোটা ভীম, মোটু পাতলু রয়েছে। তার সঙ্গে রয়েছে রকমারি লাইট জ্বলা রাখি। সুইচ টিপলে তাতে জ্বলে উঠবে লাইট। পাইকারি বাজারে দাম ২০ থেকে ২৫ টাকা। তবে বাঙালির রাখি উত্সবে রাজনীতি থাকবে না, তা তো হতে পারে না। তাই মোদি আর মমতার ছবি দেওয়া রাখিও আছে। দাম চার থেকে পাঁচ টাকা। রাখির বাহার এখানেই শেষ নয়। জগন্নাথ-বলরাম-শুভদ্রার ছবি দেওয়া রাখিও ভালো বিক্রি হচ্ছে এবছর।
উলুবেড়িয়া থেকে এক দোকানদার বড়বাজারে এসেছিলেন কিনতে। সুবল হালদার নাম। বললেন, ‘চাহিদা বরাবরের মতো এই বছরও একই রয়েছে। নতুন ডিজাইনের রাখি কিছু তুললাম। তবে ট্র্যাডিশনাল ডিজাইনের দিকেই এখনও লোকের নজর। সেসবই অনেকে পছন্দ করেন।’ ‘রাজনৈতিক রাখির চাহিদা কেমন?’ প্রশ্নের উত্তরে বড়বাজারের এক দোকানদার বলেন, ‘নির্দিষ্ট দলের লোকেরাই ওই রাখি কিনছেন। দোকানদাররা খুব একটা কিনছেন না।’ সব মিলিয়ে মোদি-মমতা থেকে কৃষ্ণ, ডোরেমন থেকে ছোটা ভীম, রাখির বাজার দখলে রেখেছেন এরাই। নিজস্ব চিত্র