Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিষ্ণপুরের দুর্গাপুজোর থিমে প্রাধান্য পাচ্ছে নানা শিল্পকলা

পোড়ামাটির শিল্প থেকে কাঁসাশিল্প। পুরুলিয়ার ছৌ থেকে আরম্ভ করে বাঁশের শিল্প। আদি শক্তির আরাধনা থেকে সুরের সাধনা। বিষ্ণুপুরে বিগ বাজেটের বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে এবারে এসবই ফুটে উঠবে।

বিষ্ণপুরের দুর্গাপুজোর থিমে প্রাধান্য পাচ্ছে নানা শিল্পকলা
  • ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: পোড়ামাটির শিল্প থেকে কাঁসাশিল্প। পুরুলিয়ার ছৌ থেকে আরম্ভ করে বাঁশের শিল্প। আদি শক্তির আরাধনা থেকে সুরের সাধনা। বিষ্ণুপুরে বিগ বাজেটের বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে এবারে এসবই ফুটে উঠবে।  

Advertisement

শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি এবারে তাঁদের মণ্ডপটিকে পোড়ামাটির চেহারা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। পুজো কমিটির সম্পাদক কৌশিক বোস বলেন, আমাদের পুজো এবারে ৩৩তম বর্ষে পড়ল। বাজেট প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা। ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী ভার্চুয়ালি মণ্ডপের উদ্বোধন করেছেন। 
দলমাদল সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির এবারের থিম ‘দুর্গা এবার পেতল কাঁসায় অসুর যাবে যমের বাসায়’। তাঁদের ২২তম বর্ষের পুজোয় বিষ্ণুপুরের প্রাচীন কাঁসা শিল্পকে তুলে ধরা হয়েছে। ২০ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট শিবের কোলে ১০ ফুটের কাঁসার থালায় মা পার্বতী থাকছেন। এছাড়াও কার্তিক, গণেশ এবং লক্ষ্ণী, সরস্বতীও কাঁসার থালার মধ্যে থাকবেন। মুখ্যমন্ত্রী ভার্চুয়ালি পুজোর উদ্বোধন করেছেন। পুজো কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশিস রায় বলেন, মণ্ডপের সামনে শিল্পীরা কাঁসার সামগ্রী তৈরি করবেন। দর্শনার্থীরা তা দেখতে পারবেন। বাজেট ৬ লক্ষ টাকা। 
সেনহাটি কলোনি সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির এবারের থিম ‘সুরের সাধনায় বিষ্ণুপুর’। বিষ্ণুপুরের শতাব্দী প্রাচীন রামশরণ মিউজিক কলেজকে তাঁরা মণ্ডপে তুলে ধরেছেন। পুজো কমিটির এক কর্মকর্তা অলকেশ দত্ত বলেন, আমাদের পুজো এবারে ২৮তম বর্ষে পড়ল। এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন মিউজিক কলেজকে আমরা এবারে মণ্ডপে তুলে ধরছি। তার মাধ্যমে বিষ্ণুপুর ঘরানার সঙ্গীতকে তুলে ধরা হয়েছে। বাজেট প্রায় ৭ লক্ষ টাকা। 
শালবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির পুজো ২৮তম বছরে পড়ল। তাদের বাজেট ৮ লক্ষ টাকা। পুজো কমিটির সম্পাদক অরূপ দে বলেন, সৃষ্টি, স্থিতি ও বিনাশ এসবই আদিশক্তির মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে। পরম ব্রহ্মের সঙ্গে তুলনা করে আদিযোগী মহাদেব এবং মা পার্বতীকে আমাদের পুজোয় উপস্থাপিত করা হয়েছে। 
রসিকগঞ্জ দুর্গোৎসব কমিটির ২৬তম বর্ষের পুজোর থিম ‘আনন্দের মেলবন্ধন’। দক্ষিণ ভারতের একটি মন্দিরের আদলে মণ্ডপ সাজানো হয়েছে। পুজো কমিটির সম্পাদক অরুণ দে বলেন, দক্ষিণ ভারতের মন্দিরের কারুকার্য, মিনার, গম্বুজ ও প্রাচীন ভাস্কর্যের মাধ্যমে ঐতিহ্য ও শিল্পকলা আমাদের মণ্ডপে তুলে ধরা হয়েছে। 
শহরের ময়রাপুকুর সর্বজনীন এবারে তাঁদের মণ্ডপে পুরুলিয়ার ছৌ শিল্পকে তুলে ধরেছে। মা দুর্গা সহ লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও মহিষাসুরের মূর্তিও ছৌয়ের মুখোশের আদলে তৈরি করা হয়েছে। মণ্ডপেও ছৌ শিল্পের নানা দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে।  
শহরের বৈলাপাড়া সর্বজনীন দুর্গাৎসব কমিটি তাঁদের ৫৪তম বর্ষের পুজোয় বাঁশ দিয়ে মণ্ডপ সাজিয়েছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় বাঁশ, তালপাতা, মাদুর প্রভৃতি শিল্পকর্ম হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই কমিটির সদস্যরা এবারে পুরনো শিল্পকে মণ্ডপে তুলে ধরছেন।  
তিলবাড়ি-লালবাঁধ সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির পুজোর থিম ‘সাবেকিয়ানা ও মেলবন্ধন’। বাজেট ৭ লক্ষ টাকা। পুরনো আমলের জমিদারবাড়ির আদলে মণ্ডপ সাজানো হয়েছে। এই পুজো এবারে ২২তম বর্ষে পড়ল।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ