Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

নানা রকম

সম্প্রতি ঢাকুরিয়া সিএলটি অবন মহলে অনুষ্ঠিত হল সালংকারা স্কুল অব পারফর্মিং আর্টের বার্ষিক অনুষ্ঠান ‘রবি রাগ রূপ’।

নানা রকম
  • ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রবি রাগ রূপ

Advertisement

সম্প্রতি ঢাকুরিয়া সিএলটি অবন মহলে অনুষ্ঠিত হল সালংকারা স্কুল অব পারফর্মিং আর্টের বার্ষিক অনুষ্ঠান ‘রবি রাগ রূপ’। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানোর উদ্দেশ্যে ‘রবি রাগ রূপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানটির আয়োজন হয়। তিনটি অংশকে সাজানো হয়েছিল সম্পূর্ণ অনুষ্ঠান। রবীন্দ্রনাথের বিভিন্ন পর্যায়ের গানগুলিকে নিয়ে নানা রঙে সাজানো প্রথম পর্ব। যার নাম রবি। পরের অংশটির নাম রাগ। যেখানে রবীন্দ্রনাথের প্রিয় চারটি হিন্দুস্তানী ধ্রুপদী রাগ (ইমন কল্যাণ, হামির, কেদার, বেহাগ) নিয়ে অনুষ্ঠানটি পরিকল্পিত। এই চারটি রাগের অধীনে মোট আটটি গানে ধ্রুপদী ঘরানার ওপর ভিত্তি করে নাচের কোরিওগ্রাফি করেছেন অঙ্কিতা রায়। অভিজ্ঞতায় প্রবীণ নৃত্যশিল্পীরা অংশ নিয়েছিলেন। সংগীত পরিবেশনার দায়িত্বে ছিলেন দেবাশিস রায়চৌধুরী ও তাঁর কন্যা রোহিণী রায়চৌধুরী। পরবর্তী অংশের নাম রূপ। এই অংশে লখনউ ঘরানার কত্থক পরিবেশিত হয়। ৮৮জন নৃত্যশিল্পীর মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় ভরে উঠেছিল সমগ্র অনুষ্ঠান।  

 

নবীন-প্রবীণের সহাবস্থান

বছরের শুরুতেই এক অভিনব অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকল শীতের‌ কলকাতা। সৌজন্যে ‘ঐক্যম ২’। ‘সন্তুর আশ্রম’ ও ‘প্লে অন’-এর এই যৌথ প্রচেষ্টায় একই মঞ্চে ঐক্যবদ্ধ হলেন নবীন ও প্রবীণ শিল্পীরা। উত্তম মঞ্চে আয়োজিত দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিল্পীদের পাশে থাকা। আয়োজকদের সেই প্রয়াস সফল হয়েছে। ‘প্লে অন’-এর সম্পাদক পৃথ্বীরাজ রায় বলেন, ‘আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে রক্ষা করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিল্পীদের লালন করাও সমানভাবে জরুরি। বহু প্রতিভাবান অথচ আর্থিকভাবে অনগ্ৰসর শিল্পী উপযুক্ত মঞ্চ ও সুযোগের অভাবে এগিয়ে যেতে পারেন না। তাঁদের পাশে দাঁড়াতেই  আমাদের এই আন্তরিক প্রয়াস।’ প্রথম দিন দর্শকদের মন জয় করে নেন পণ্ডিত বিশ্বমোহন ভাট, অন্বেষা দত্তগুপ্ত, সংকেত জোশি ও রূপা রানি দাস বোরা। পণ্ডিত রণু মজুমদার ও ডঃ মাইসোর মঞ্জুনাথের বাঁশি ও বেহালার যুগলবন্দি ছিল দ্বিতীয় দিনের অন্যতম আকর্ষণ। এছাড়াও অর্ণব ভট্টাচার্য, প্রসেনজিৎ পোদ্দার, নির্মাল্য রায়, তন্বী চৌধুরীর অনুষ্ঠান উপস্থিত সকলের ভালো লেগেছে।

 

সেতারবাদন কনসার্ট

সম্প্রতি বালিগঞ্জের আলকা জালান ফাউন্ডেশনে (দাগা নিকুঞ্জ) অনুষ্ঠিত হল দু’দিন ব্যাপী শাস্ত্রীয় সেতার সম্মেলন ‘দ্য ক্যালকাটা সেতার কনসার্ট’। যাত্রাপথ কালচারাল সোসাইটির উদ্যোগে ও বিশিষ্ট সেতারবাদক অভিরূপ ঘোষের তত্ত্বাবধানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সহযোগিতায় ছিল ভারতীয় বিদ্যা ভবন ও ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রক। দু’দিনের এই সম্মেলনে সংগীত পরিবেশন করেন ভারতের বহু বিশিষ্ট সেতারবাদক ও তবলাবাদকরা। প্রথমদিন যাত্রাপথের সমবেত নিবেদন পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সৃজন চট্টোপাধ্যায়ের গান এবং প্রবীণ অজয় ভট্টাচার্যের স্তোত্র শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। প্রবীণ সেতারবাদক পণ্ডিত নীলাদ্রি সেন ও পণ্ডিত সমর সাহার নিবেদন উপভোগ করেন দর্শক। দ্বিতীয়দিনের শুরুতে শোনা যায় যাত্রাপথের ছাত্রছাত্রীদের সমবেত সেতারবাদন। এরপর সেতারে রাগ ইমনকল্যাণে ধ্রুপদ অঙ্গে আলাপ জোর পরিবেশন করেন সংস্থার কর্ণধার সেতারবাদক অভিরূপ ঘোষ। তবলায় যোগ্য সহযোগিতা করেন রোহেন বোস। বন্দিশে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন অভিষেক মল্লিক। তবলায় সঙ্গত দেন পণ্ডিত বিক্রম ঘোষ।  

 

ফেব্রিক অব মিউজিক

উইভার্স স্টুডিও এবং সৌমিক দত্ত আর্টস (যুক্তরাজ্য) এর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হল তিনদিনের অভিনব অনুষ্ঠান ‘ফেব্রিক অব মিউজিক’। সহযোগিতায় ছিল সংগীত আশ্রম এবং অলকা জালান ফাউন্ডেশন। শেষ দিনে মঞ্চে একক সরোদ বাদনে ছিলেন সরোদশিল্পী সৌমিক দত্ত। সঙ্গে তবলায় দেবজিৎ পতিতুণ্ড। সৌমিক সরোদে রাগ কৌশিকী কানাড়াতে আলাপ জোড়ের পর শোনালেন বিলম্বিত ঝাঁপতাল এবং তিনতালে মধ্যলয় গৎ-এর পর দ্রুত ঝালা দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করেন। সরোদের সুরে সুরময় হয়ে ওঠে উপস্থাপনা। 

 

বার্ষিক অনুষ্ঠান

সম্প্রতি সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে হয়ে গেল উদয়ন কলা কেন্দ্রের বার্ষিক অনুষ্ঠান ‘প্রয়াস ২০২৫’। এই দিন নৃত্যজগতের বিভিন্ন কৃতীদের পুরষ্কৃত করা হয়। পুরষ্কার তুলে দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার। পরে নৃত্য পরিবেশন করেন সংস্থার ছাত্র-ছাত্রীরা। রবি শংকরের কম্পোজিশন থেকে সলিল চৌধুরীর কম্পোজিশন— নানা রকমের গানের সুরে নৃত্য পরিবেশন করেন কয়েকশো শিক্ষার্থী। সকলেই যে অনুশীলন করেছেন, পারফরম্যান্সই তার প্রমাণ। পরে পরিবেশিত হয় ‘আজকের একলব্য’ প্রযোজনাটি। উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রোদয় ঘোষ, মমতা শংকর। নাচের মধ্যে ‘বাজলো ছুটির ঘন্টা’ উল্লেখযোগ্য।

 

মনোগ্রাহী আয়োজন

ইউনেস্কো, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহযোগিতায় সুন্দরবনের সজনেখালিতে ‘সুন্দেরিদম’ নামে এক উৎসবের আয়োজন হল সদ্য। কলকাতা সোসাইটি ফর কালচারাল হেরিটেজ বা কেএসসিএইচ-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। রাজ্যজুড়ে ১০০-এর বেশি শিল্পীরা অংশ নিয়েছিলেন এই অনুষ্ঠানে। পারফর্ম করা হয় ছৌ, ঝুমুর, বাউল ও ফকিরি, ভাটিয়ালি, রায়বেঁশে, গম্ভীরা, ভাওয়াইয়া সহ আরও নানা লোকশিল্প। সুন্দরবন বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভে অনুষ্ঠিত এই উৎসবটি প্রাচীন লোকশিল্প সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ককে তুলে ধরেছে। এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বনবিবির পালা। সুন্দরবনের ঐতিহ্যবাহী এই লোকশিল্পের মাধ্যমে মানুষ, প্রকৃতি ও প্রাণীদের সহাবস্থানকে তুলে ধরা হয়।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ