Bartaman Logo
২ জুলাই, ২০২৬

রামমন্দিরের প্রণামী চুরিতে বারাণসী যোগ, কুম্ভমেলার সময়ই সর্বাধিক ‘লুট’

রামমন্দিরের প্রণামী চুরিতে বারাণসীর নিরাপত্তা কর্মীদের জড়িত থাকার তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ। বিস্তারিত পড়ুন।

রামমন্দিরের প্রণামী চুরিতে বারাণসী যোগ, কুম্ভমেলার সময়ই সর্বাধিক ‘লুট’
  • ২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অযোধ্যার রামমন্দিরে প্রণামী ‘চুরি’তে মিলল বারাণসী কানেকশন! দানবাক্সগুলিতে জমা পড়া টাকা প্রতিদিন লুট হয়েছে। আর প্রণামী হাতানোর সেই ‘কর্মকাণ্ডে’ গ্রেপ্তার হওয়া আটজনের মধ্যে ছ’জনই নরেন্দ্র মোদির লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীর একটি নিরাপত্তা এজেন্সির কর্মী। নাম, সৈনিক সিকিওরিটি সার্ভিসেস। তাদের নিযুক্ত ছয় রক্ষীর দায়িত্ব ছিল, রামমন্দিরের প্রণামী বাক্সের টাকা গোনা। এখানেই শেষ নয়, তদন্তকারীরা জেরায় জানতে পেরেছে, রামমন্দিরে সবথেকে বেশি চুরি হয়েছে কুম্ভমেলা চলাকালীন। কারণ স্বাভাবিক। ২০২৫ সালের পূর্ণকুম্ভ চলাকালীন একটি প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। দেশ-বিদেশ থেকে আসা লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী, পর্যটকদের যাঁরাই প্রয়াগরাজে কুম্ভমেলায় গিয়েছেন, তাঁদের সিংহভাগ গিয়েছেন রামমন্দির দর্শনেও। সুতরাং ওই সময়কালে প্রবল ভিড় হয় অযোধ্যায়। আর বেশি ভিড়ের অর্থ? বেশি প্রণামী। সিটের তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০২৪’এ কুম্ভমেলার সময় রামমন্দিরের দানবাক্স বা ট্রাস্টে বিপুল অঙ্কের অর্থ ও অলংকার যেমন জমা পড়েছে, ঠিক সেরকমই বেড়েছে চুরির পরিমাণ। সব টাকা কিন্তু উদ্ধার হয়নি। কারণ একটাই। রামমন্দিরের টাকা চুরি করে সেই রামমন্দিরের কাছেই অযোধ্যার বিভিন্ন স্থানে নাকি জমিবাড়ি কিনে ফেলা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া এক ব্যক্তির বাড়িতে হানা দিয়ে তদন্তকারী টিম রামমন্দির কোষ লেখা দানবাক্স পর্যন্ত উদ্ধার করেছে। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি নিছক মন্দিরে গণনার সময় চুরি নয়! সোজা দানবাক্সই বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে? নজরকাড়া বিষয় হল, সিট গঠনের দিন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ঘোষণা করেছিলেন, ‘১৫ দিন। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’ অথচ এদিন সেই সময়সীমা আরও ১৫ দিন বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

Advertisement

বারাণসীর ওই সিকিওরিটি সংস্থাকেও জেরা করেছে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, স্টেট ব্যাংকের অযোধ্যার নয়া ঘাট শাখা তাদের থেকে নিরাপত্তাকর্মী চেয়েছিল। সেই মতোই পাঠানো হয়েছিল রক্ষীদের। নয়া ঘাট এলাকা সরযূ নদীর কাছেই। রামমন্দিরের অ্যাকাউন্ট যে ব্যাংকগুলি পরিচালনা করে, তার অন্যতম স্টেট ব্যাংক। তবে ওই সংস্থার পক্ষ থেকে তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়েছে তদন্তকারীদের। বলা হয়েছে, স্টেট ব্যাংক বিশেষ ১৯ জনের নামের তালিকা তৈরি করেই দিয়েছিল সংস্থাকে। কারণ হিসাবে বলা হয়েছিল, এই ১৯ জন আগেও স্টেট ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী হিসাবে কাজ করেছে। পরিচিত মুখ। তাই তাদেরই চাই। আর এই তালিকারই ছ’জন গ্রেপ্তার হয়েছে রামমন্দির কাণ্ডে। নিরাপত্তারক্ষী হিসাবে কত বেতন ছিল তাঁদের? মাসে ২০ হাজার টাকা। তাঁদেরই একাংশকে রক্ষীর কাজ থেকে সরিয়ে প্রণামীর অর্থ গোনার দায়িত্বে নিয়ে আসা হয়। তদন্ত এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জেরা করে জানা যাচ্ছে, রামমন্দির সাধারণের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর প্রণামীর বাক্স খুলত। শুরু হত টাকা গোনা। রক্ষীদের একাংশ এমনভাবে বাক্স ঘিরে দাঁড়াত, যাতে সিসি ক্যামেরায় দেখা না যায়। সেই সুযোগে সরিয়ে দেওয়া হত প্রণামী। প্রথমে টাকা রাখা হত বাথরুমে। এরপর সরিয়ে ফেলা হত। ধীরে ধীরে। তদন্তকারীরা জেনেছেন, এর নেতৃত্বে ছিলেন মূলত একজন—লবকুশ! 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ