নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অযোধ্যার রামমন্দিরে প্রণামী ‘চুরি’তে মিলল বারাণসী কানেকশন! দানবাক্সগুলিতে জমা পড়া টাকা প্রতিদিন লুট হয়েছে। আর প্রণামী হাতানোর সেই ‘কর্মকাণ্ডে’ গ্রেপ্তার হওয়া আটজনের মধ্যে ছ’জনই নরেন্দ্র মোদির লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীর একটি নিরাপত্তা এজেন্সির কর্মী। নাম, সৈনিক সিকিওরিটি সার্ভিসেস। তাদের নিযুক্ত ছয় রক্ষীর দায়িত্ব ছিল, রামমন্দিরের প্রণামী বাক্সের টাকা গোনা। এখানেই শেষ নয়, তদন্তকারীরা জেরায় জানতে পেরেছে, রামমন্দিরে সবথেকে বেশি চুরি হয়েছে কুম্ভমেলা চলাকালীন। কারণ স্বাভাবিক। ২০২৫ সালের পূর্ণকুম্ভ চলাকালীন একটি প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। দেশ-বিদেশ থেকে আসা লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী, পর্যটকদের যাঁরাই প্রয়াগরাজে কুম্ভমেলায় গিয়েছেন, তাঁদের সিংহভাগ গিয়েছেন রামমন্দির দর্শনেও। সুতরাং ওই সময়কালে প্রবল ভিড় হয় অযোধ্যায়। আর বেশি ভিড়ের অর্থ? বেশি প্রণামী। সিটের তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০২৪’এ কুম্ভমেলার সময় রামমন্দিরের দানবাক্স বা ট্রাস্টে বিপুল অঙ্কের অর্থ ও অলংকার যেমন জমা পড়েছে, ঠিক সেরকমই বেড়েছে চুরির পরিমাণ। সব টাকা কিন্তু উদ্ধার হয়নি। কারণ একটাই। রামমন্দিরের টাকা চুরি করে সেই রামমন্দিরের কাছেই অযোধ্যার বিভিন্ন স্থানে নাকি জমিবাড়ি কিনে ফেলা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া এক ব্যক্তির বাড়িতে হানা দিয়ে তদন্তকারী টিম রামমন্দির কোষ লেখা দানবাক্স পর্যন্ত উদ্ধার করেছে। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি নিছক মন্দিরে গণনার সময় চুরি নয়! সোজা দানবাক্সই বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে? নজরকাড়া বিষয় হল, সিট গঠনের দিন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ঘোষণা করেছিলেন, ‘১৫ দিন। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’ অথচ এদিন সেই সময়সীমা আরও ১৫ দিন বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।



