Bartaman Logo
২ জুলাই, ২০২৬

পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে ঐশ্বর্যের ‘নিম্বুড়া নিম্বুড়া’

ওড়িশার পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে বলিউডের গান যুক্ত হওয়ায় বিতর্ক। শিক্ষামন্ত্রী নিত্যানন্দ গোন্দ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। বিস্তারিত পড়ুন।

পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে ঐশ্বর্যের ‘নিম্বুড়া নিম্বুড়া’
  • ২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ভুবনেশ্বর: ‘নিম্বুড়া...নিম্বুড়া। কাচা কাচা ছোটা ছোটা নিম্বুড়া লাই দো।’ ১৯৯৯ সাল। সলমন খান ও ঐশ্বর্য রাই অভিনীত ‘হাম দিল দে চুকে সনম’ সিনেমায় রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল রাজস্থানি লোকসংগীতটি। এবার সেই গান ঠাঁই পেয়েছে বইয়ের পাতায়। বিজেপি শাসিত ওড়িশার সরকারি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণির ইংরেজি পাঠ্যবইয়ে জ্বলজ্বল করছে গানটি। সঙ্গে জনপ্রিয় ওড়িয়া গান ‘রাজা ডোলি’-ও। ক্লাস এইটের ইংরেজি বইয়ে রয়েছে ‘মিশন কাশ্মীরে’র ‘রিন্দ পোশ মাল’ গান। আবার তৃতীয় শ্রেণিতে ‘বুমরো বুমরো’। যা দেখে শিক্ষক থেকে শুরু করে অভিভাবকদের চক্ষু চড়কগাছ। সরব রাজ্যের বিরোধী দলগুলিও। তাদের বক্তব্য— স্কুলের বইতে ইতিহাস, বীরগাথা, মনীষীদের কথা তুলে ধরা হয়। সেই জায়গায় বলিউডের চটকদার গান ছাপা হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে পড়ুয়াদের এভাবেই লোকসংস্কৃতি পড়ানো হচ্ছে। ওড়িশা বিধানসভার সামনে নিম্বুড়া গান চালিয়ে নাচতে নাচতে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিজেডির কর্মী-সমর্থকরা। 

Advertisement

জাতীয় শিক্ষানীতি এবং ওড়িশা কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক ২০২৫ অনুসরণ করে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য নতুন বই ছাপানো হয়েছে ওড়িশায়। ডিরেক্টরেট অব টিচার এডুকেশন অ্যান্ড স্টেট কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং-এর (এসসিইআরটি) তত্ত্বাবধানে তৈরি করা হয়েছে বইগুলি। ইতিমধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬৭৮টি ভুল নজরে এসেছে। সেখানে কোথাও আইজ্যাক নিউটনকে পাইলট হিসাবে দেখানো হয়েছে। কোথাও আবার কর্ণাটক বিধানসভার ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে ওড়িশা বিধানসভা। ভুলের তালিকায় নতুন সংযোজন হল একের পর এক বলিউড গান। এখানেই শেষ নয়। ষষ্ঠ শ্রেণির ‘স্কিল এডুকেশন’-এর অধীনে পড়ুয়াদের শেখানো হচ্ছে ঝালমুড়ি, ফ্রুট স্যালাড, লস্যি, পুদিনার চাটনি, স্যান্ডউইচ তৈরির প্রক্রিয়া।
এনিয়ে ওড়িশার স্কুল শিক্ষা দপ্তরের এক শীর্ষ আধিকারিকের যুক্তি, লোকসংগীত-লোকসংস্কৃতি বিষয়ক অধ্যায়ে এই গানগুলি রাখা হয়েছে। পড়ুয়াদের সহজে বিভিন্ন রাজ্যের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এনসিইআরটি-র বইয়েও এই গানগুলি রয়েছে। তা অনুসরণ করইে আমাদের বইতেও গানগুলি রাখা হয়েছে। আর ঠিক এখানেই তীব্র আপত্তি একাংশের। তাদের বক্তব্য, এভাবে বলিউড গান ব্যবহার হলে শিশুদের ভাষা, চিন্তা-ভাবনার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ইতিমধ্যে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী নিত্যানন্দ গোন্দ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ