Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফের অশান্ত বেলডাঙায় চলল ভাঙচুর, লাঠিচার্জ করল পুলিশ, গ্রেপ্তার ৩০ জন

শুক্রবারের পর শনিবার ফের অশান্ত হয়ে উঠল বেলডাঙা। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে বড়ুয়া মোড়ে অবরোধের পাশাপাশি আটকে পড়া বাস ও ট্রাকে যথেচ্ছ ভাঙচুর চালানো হয়।

ফের অশান্ত বেলডাঙায় চলল ভাঙচুর, লাঠিচার্জ করল পুলিশ, গ্রেপ্তার ৩০ জন
  • ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: শুক্রবারের পর শনিবার ফের অশান্ত হয়ে উঠল বেলডাঙা। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে বড়ুয়া মোড়ে অবরোধের পাশাপাশি আটকে পড়া বাস ও ট্রাকে যথেচ্ছ ভাঙচুর চালানো হয়। পাঁচরাহা রেলগেট ভেঙে তা রেললাইনে ফেলে শুরু হয় ট্রেন অবরোধ। যার জেরে লালগোলা-শিয়ালদহ রুটে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়। পরিস্থিতি সামলাতে ময়দানে নামে বিশাল পুলিশবাহিনী ও র‌্যাফ। ঘটনাস্থল থেকে ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভিডিয়ো ফুটেজ দেখে ভাঙচুর ও অশান্তিতে জড়িতদের চিহ্নিত করে পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশ সুপার।

Advertisement

ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিককে খুনের অভিযোগে শুক্রবার বেলডাঙায় বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। শনিবার মহ্যমপুরের যুবক আনিসুর রহমানকে বিহারে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ওঠে। সেখবর পেতেই ফের আন্দোলন শুরু হয়। জনজীবন বিপর্যস্ত করে বিক্ষোভ চলা সত্ত্বেও পুলিশ কার্যকরী পদক্ষেপ করছে না বলে অভিযোগ উঠছিল। শনিবার দুপুরে অবশ্য বিশাল বাহিনী এলাকায় নামে। ঘণ্টাখানেক অবরোধের পর পুলিশ বিক্ষোভকারীদের হটাতে লাঠিচার্জ শুরু করে। লাঠিচার্জ করে রেললাইন থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। পালটা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়ে অবরোধকারীরা। শুধু তাই নয়, যাত্রীবাহী বাস লক্ষ্য করে তারা পাথর ছুড়তে থাকে। একটি বাসের সামনের কাচ ভেঙে যায়। চালক আসন ছেড়ে নেমে পড়েন। বাসযাত্রীরা ভয়ে আর্তনাদ করতে থাকেন। আন্দোলনকারীদের লাঠিচার্জ করে সরানোর পর ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ।

মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ বলেন, আমরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ তোলার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তারা কথায় কান দেয়নি। তাই লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে বাধ্য হই। বিকেল অবধি ঘটনাস্থল থেকেই ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা দু’দিনের ঘটনার বেশ কিছু ভিডিয়ো পেয়েছি। সেগুলি দেখে দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হবে। সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় চারজনকে আটক করে জেরা করা হচ্ছে।  শুক্রবার পরিস্থিতি সামাল দিতে রাস্তায় নেমেছিলেন মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া। তিনি জানান, জেলার পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে জন্য কন্ট্রোলরুম চালু করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও জনতাকে প্ররোচনায় পা না দেওয়ার অনুরোধ করেন।

এদিন বহরমপুরে এসে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সভায় আসার আগে বেলডাঙায় অশান্তির খবর পাই। দলের অনেকেই সভা না করার কথা বলেছিলেন। খোঁজ নিয়ে দেখলাম, এই ঘটনায় বিজেপির বাবুরা ইন্ধন দিচ্ছে। এই মাটিতে আর একজন গদ্দার তৈরি হচ্ছে। বহরমপুরে সভা করতে না এলে গদ্দারদের অক্সিজেন দেওয়া হত। সাধারণ মানুষের প্রতি অভিষেক আবেদন করেন, কারও প্ররোচনায় পা দেবেন না। শুক্রবার এবং এদিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধির উপর আক্রমণ হয়েছে। এবিষয়ে পদক্ষেপের জন্য দলীয়ভাবে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ