Bartaman Logo
২০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রেশনের গম পাচারের অভিযোগ ভ্যান আটক, চালককে মারধর

রেশন দোকান থেকে গম পাচার করা হচ্ছে এই অভিযোগ তুলে মালবোঝাই একটি ইঞ্জিন ভ্যান আটক করলেন স্থানীয় বাসিন্দারা

রেশনের গম পাচারের অভিযোগ ভ্যান আটক, চালককে মারধর
  • ২০ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: রেশন দোকান থেকে গম পাচার করা হচ্ছে এই অভিযোগ তুলে মালবোঝাই একটি ইঞ্জিন ভ্যান আটক করলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বুধবার সকালে নবদ্বীপের শ্রীবাস অঙ্গন রোডের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযোগ, ভ্যানটি আটক করার পর উত্তেজিত জনতা চালককে মারধর করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নবদ্বীপ থানার পুলিশ চালককে উদ্ধার করে এবং ইঞ্জিন ভ্যানে থাকা গম থানায় নিয়ে যায়।

Advertisement

এই ঘটনায় তেঘরিপাড়ার বাসিন্দা প্রণব কুমার মণ্ডল রেশন দোকান থেকে গম অবৈধভাবে পাচারের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। নবদ্বীপ ব্লকের এক আধিকারিককেও বিষয়টি জানিয়েছেন।
অভিযোগকারী প্রণব কুমার মণ্ডলের দাবি, বুধবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে তিনি দেখেন, সুশান্ত কুণ্ডুর রেশন দোকান থেকে গম একটি গাড়িতে তোলা হচ্ছে। তাঁর সন্দেহ হওয়ায় তিনি গাড়িটিকে আটকানোর চেষ্টা করেন। প্রণবের অভিযোগ, এরপর তাঁকে গালিগালাজ করা হয়। পরে তিনি গাড়িটির পিছু নিয়ে দেখেন, গমের বস্তাগুলি শ্রীবাস অঙ্গন চড়া এলাকার একটি গোডাউনে ঢোকানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, রেশন দোকান থেকে ভোরবেলা এভাবে গম বের করে নিয়ে যাওয়ায় তাঁর সন্দেহ হয়। এরপর তিনি পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে গমগুলি নিয়ে যায়। তাঁর দাবি, প্রায় ৪০ বস্তা গম ছিল।
প্রণববাবু আরও জানান, জেলা নিয়ামক আধিকারিককেও হোয়াটসঅ্যাপে বিষয়টি জানিয়েছেন। ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা বিক্রম আদিত্য বলেন, এখানে এসে দেখি রেশন দোকান থেকে গম আবার গোডাউনে ফেরত আসছে। পরে পুলিশ গম উদ্ধার করে নিয়ে যায়। আর এক স্থানীয় বাসিন্দা রাজেশ সাহার অভিযোগ, রেশন দোকান থেকে গম ফেরত আসছিল। সেই গাড়ি আমরা আটক করি। এর মধ্যে কোনো অনিয়ম হচ্ছিল কি না, সেটাই তদন্ত হওয়া দরকার। যদিও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রেশন দোকানের মালিক সুশান্ত কুণ্ডু। তিনি বলেন, দোকানের ২৩ বস্তা গমে পোকা ধরে যাওয়ায় সেগুলি বদলে দেওয়ার জন্য হোলসেল গোডাউনে ফেরত পাঠানো হচ্ছিল। তিনি আরও বলেন, বর্ষাকালে গমে পোকা ধরার সমস্যা হয়। রেশন দেওয়ার পর কিছু গম অবশিষ্ট থাকে এবং সেগুলি পরে গ্রাহকদের দেওয়ার জন্য রাখা হয়। সেই গমে পোকা ধরে যাওয়ায় পরিবর্তনের জন্য ফেরত পাঠানো হচ্ছিল। গম পাচারের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এবিষয়ে বিধায়ক শ্রুতি শেখর গোস্বামী জানান, পুলিশকে বলা হয়েছে, অভিযোগ ভালো করে পর্যালোচনা করতে। অন্যায়কারীরা যেমন শাস্তি পাবে তেমনই 
অযথা যেন কেউ হেনস্থার সম্মুখীন না হয় তাও নজরে রাখতে হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ