


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চিনার পার্ক থেকে পেঁচার মোড় হয়ে বিশ্ববাংলা সরণি ধরে ছুটছিল দ্রুতগতির এসইউভি গাড়ি। ইকো পার্ক ২ নম্বর গেটের কাছে সামনের একটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়েই বিপত্তি! চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে ‘জিক-জ্যাক’ ঢংয়ে বেপরোয়াভাবে চলতে থাকে ছাই রঙা সেই গাড়ি। প্রথমে বাসস্ট্যান্ডে, তারপর লেন পেরিয়ে ডিভাইডারে ধাক্কা মেরে উলটে যায় সেটি। গাড়ির ভিতরে রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করছেন দুই তরুণী। তাঁদের সঙ্গী আরও এক যুবক। চালকের আসনে ছিলেন তিনিই। ফের নিউটাউন। ফের বিশ্ববাংলা সরণি। ফের ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল সাতসকালে। ভ্যালেনটাইন্স ডে-র সকালে দুই বান্ধবীকে নিয়ে রাইডে বেরিয়েছিলেন যুবক। ডিভাইডারে ধাক্কা মারার পর একটি অ্যাপ ক্যাবের সঙ্গেও মৃদু সংঘর্ষ হয় এসইউভির। দুর্ঘটনার জেরে প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে যায় বিশ্ববাংলা সরণি। অন্যান্য গাড়ির যাত্রী ও স্থানীয়রাই উদ্ধারকাজে হাত লাগান। তাঁরাই দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি থেকে দুই তরুণী ও চালককে উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পৌঁছায় ইকো পার্ক থানা ও ট্রাফিক পুলিশের টিম। তাঁরা আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যান। গাড়িটিকে বাজেয়াপ্ত করেছে ইকো পার্ক থানার পুলিশ। গাড়ির নম্বর যাচাই করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর উদাহরণ এই প্রথম নয়। ট্রাফিক বিধি ভাঙার অভিযোগে সাতটি মামলা ঝুলে রয়েছে এই গাড়িতে। তার মধ্যে তিনটিই বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানোর অভিযোগ। রাস্তায় বিপজ্জনকভাবে গাড়ি পার্ক করার অভিযোগ রয়েছে আরও দু’টি।
ঠিক কী কারণে নিয়ন্ত্রণ হারান চালক? পেঁচার মোড় থেকে গোটা বিশ্ববাংলা সরণির ১১টি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা। দেখা গিয়েছে, অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছুটছে গাড়িটি। ইকো পার্কের সামনে রাস্তা ফাঁকা থাকায় রীতিমতো ঝড় তোলেন চালক। গতি না কমিয়ে একটি প্রাইভেট গাড়িকে চকিতে পাশ কাটাতে গিয়েই দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, দুই তরুণীর পায়ের একাধিক জায়গায় চোট লেগেছে। চালকের ডানহাতের কনুই থেকে কব্জি পর্যন্ত কেটে যায়। জানা গিয়েছে, ডিভাইডারের সঙ্গে সংঘর্ষে চালকের আসনের এয়ারব্যাগ খুলে যাওয়ার ফলে প্রাণে রক্ষা পান তিনি।