


আমজনতার মতো অভিনেতা ও ইউটিউবারদের জীবনেও এসেছে প্রেম। কখনও তিনি সফল হয়েছেন। কখনও অচিরেই শুকিয়েছে ভালোবাসা। ভ্যালেন্টাইনস ডে নিয়ে মতামত দিলেন তাঁরা।
ভ্যালেন্টাইনস ডে-তেই ব্রেকআপ
সৌরসেনী মৈত্র (অভিনেত্রী)
• ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’-র সঙ্গে আমার একটা অন্যরকম সম্পর্ক আছে। আমার দুটো সম্পর্কের ব্রেকআপ হয়েছিল ভ্যালেন্টাইনস ডে-তেই। এর পরে আর ভ্যালেন্টাইনস ডে নিয়ে উচ্ছ্বাস থাকার কথা নয়! ভ্যালেন্টাইন উইক জুড়ে যেসব ‘ডে’ পালন করা হয় বা ভ্যালেন্টাইনস ডে উদ্যাপন সবটাই মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি। এই সেলিব্রেশন আমার ভালোই লাগে। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি নিজেকে ভালোবাসার মানে বুঝিয়েছি। এখন মনে হয় নিজেই নিজের ভ্যালেন্টাইন হয়ে ওঠা জরুরি। তাহলে অনেক খারাপের মধ্যেও ভালোবেসে ভালোভাবে বাঁচার রসদ খুঁজে পাওয়া যায়। প্রেমের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখন গ্রিন ফ্ল্যাগ, রেড ফ্ল্যাগ-এর প্রচলন ভীষণ বেশি। আমি এক্ষেত্রে ‘কালার ব্লাইন্ড’। গ্রিন ফরেস্ট ভেবে এগিয়েছিলাম পরে দেখলাম পুরো মেরুন। কোনো প্রেমের সম্পর্ক না টিকতেই পারে, তাই বলে প্রেম খারাপ নয়।
মুখের ছাপ তোলা কাগজে চিঠি
অতনু ঘোষ (ইউটিউবার)
• স্কুলে পড়তেই আমার জীবনে প্রেম এসেছে। টুয়েলভে পড়ি। সাইকেল চড়ে লুকিয়ে দেখা করা, পড়তে গিয়ে দেখা হওয়া। তখন তো এর মানেই প্রেম! সে প্রেম তো অচিরেই ঘুচল। আরেকটু বড়ো হলাম। এবার কলেজ। প্রেমে পড়ার দারুণ সময়। আমার জীবনেও প্রেম এল। একজনকে ভালো লাগত। একটা ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে ঠিক করলাম তাকে চিঠি দিয়ে মনের কথা জানাব। আমাদের যখন কলেজবেলা, তখন বাংলা ছবিতে চিঠি পড়ার দৃশ্য থাকলেই দেখানো হতো যে চিঠি লিখছে, তার মুখ ভেসে উঠছে চিঠিতে। আমি ভাবলাম এটা বাস্তবে করলে কেমন হয়? ওই সময় বাজারে একটা কেমিক্যাল পাওয়া যেত। সেটা কোনো ছবির উপর মাখিয়ে, তার উপর কাগজ বা কাপড় ধরলে সেই ছবির ছাপ ওই কাগজ বা কাপড়ে উঠে যেত। আমি নিজের ছবির ছাপ কাগজে তুলে সেই কাগজে চিঠিটা দিয়েছিলাম। যদিও কিছুদিন পরে জেনেছিলাম সেই চিঠি তার হাত অবধিই পৌঁছয়নি! এখন সেসব ভাবলে হাসি পায়। এখন বুঝি প্রেম মানে ত্যাগ। আমাকে সে ভালোবাসুক বা না বাসুক, আমার তরফে যেন ভালোবাসা কম না হয়।
কাজের মধ্যেই প্রেমদিবস
উন্মেষ গঙ্গোপাধ্যায় (ইউটিউবার)
• প্রেম মানে আমার কাছে স্নিগ্ধতা। একটা শুদ্ধ সম্পর্ক। আমি বিশ্বাস করি, ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে প্রতিটি দিনই প্রেমদিবস। এখন তো রোজ ডে, চকোলেট ডে-র মতো আলাদা আলাদা দিনও পালন হয়। তবে এ বছর ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষ্যে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আমার নেই। কাজের মধ্যেই থাকব সারাদিন। শ্যুটিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশনের মধ্যেই কাটবে। একটা ছবি বানিয়েছি আমরা সকলে। তার পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ রয়েছে।
আমার প্রথম প্রেম ক্লাস টেন-এ। মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে। তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এরপরও জীবনে প্রেম এসেছে। ভ্যালেন্টাইনস ডে কাটিয়েছি। সিনেমা দেখেছি। এখন সমাজমাধ্যমের যুগে প্রেম নিয়ে অনেক নতুন শব্দের আমদানি হয়েছে দেখছি। সিচুয়েশনশিপ, রেড ফ্ল্যাগ, গ্রিন ফ্ল্যাগ... আরও কত কী! এই শব্দগুলির মানে আমি তেমন একটা বুঝি না। আমি তো নয়ের দশকে বাঁকুড়ায় বড়ো হয়েছি। আমার কাছে প্রেমদিবসের অর্থ পরিষ্কার হয়েছে কলকাতায় আসার পর। আর এখন যে শব্দগুলি কানে আসছে, সেগুলি নিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। তবে একটা অনুরোধ সকলকে করতে চাই, রাস্তায় কোনো যুগলকে দেখলে, তাঁদের বিরক্ত করবেন না। ওই যে প্রথমেই বললাম, প্রেম অত্যন্ত শুদ্ধ আর স্নিগ্ধ একটা সম্পর্ক।
ভালোবাসা ছড়িয়ে দিলে বাড়ে
তৃণা সাহা (অভিনেত্রী)
• ফেব্রুয়ারি মানেই ভালোবাসার মাস। গোটা সপ্তাহ জুড়ে সাজো সাজো রব। ভ্যালেন্টাইনস ডে সেলিব্রেশনের আড়ম্বর এখন অনেক বেশি। যদিও আমার কাছে বছরের প্রতিটি দিনই ভালোবাসার দিন। তবে আলাদা করে কেউ যদি একটি দিন ভালোবাসার জন্য রাখে, পালন করে তাহলে ক্ষতি কী! ভালোবাসা সবসময়ই ছড়িয়ে দিলে বাড়ে। ভালোবাসা পজিটিভিটি আনে। ভ্যালেন্টাইনস ডে-র পরিকল্পনা এক একজনের কাছে এক একরকম। আমার ক্ষেত্রেও নিজের মতো কিছু ইচ্ছে থাকে। যদি সুযোগ পাওয়া যায়, ডিনারে যাওয়া হয়। একে অপরের সঙ্গে সময় কাটানো, গিফট দেওয়া এভাবেই কাটে আমার ভ্যালেন্টাইনস ডে। আমরা সকলেই ব্যস্ত। এই ব্যস্ততার জীবনে ভালোবাসার দিন থাকার কারণে যদি একে অপরের সঙ্গে আরও কিছুটা সময় বেশি কাটানো যায়, তাতে তো মন্দ কিছু দেখি না!
প্রেমদিবসেই
সম্পর্কের শুরু
শ্বেতা ভট্টাচার্য (অভিনেত্রী)
• ভ্যালেন্টাইনস ডে আমার কাছে ভীষণ স্পেশাল। কারণ এই দিনেই আমি রুবেলের প্রপোজালে হ্যাঁ বলেছিলাম। তাই একদিক থেকে দেখতে গেলে, আমাদের সম্পর্কের শুরু ভ্যালেন্টাইনস ডে-তেই। আমার অবশ্য বিয়ের আগে ভ্যালেন্টাইনস ডে নিয়ে উন্মাদনা বেশি ছিল। কিন্তু বিয়ের পর সেই উন্মাদনায় একটু ভাটা পড়েছে। এখন আবার আমাদের বিয়ের অ্যানিভার্সারি বড়ো করে সেলিব্রেট করা হয়। যদিও রুবেল এখনও আগের মতোই অনেকটা। ও কিন্তু এ বছরও আমাকে ‘রোজ ডে’-তে গোলাপ দিয়েছে। জানি, ভ্যালেন্টাইনস ডে-তেও গিফট পাব। আমিও ওর জন্য সারপ্রাইজ গিফট রেখেছি। আমার মনে হয় ভ্যালেন্টাইনস ডে-র কারণে যে সেলিব্রেশন হয়, একে অপরকে গিফট দেওয়া হয় এতেও ভালোবাসা বেশ বাড়ে। আমি খুব ভালোবাসামুখী মানুষ। কাছের মানুষের ভালোবাসা ছাড়া বাঁচতেই পারব না। আমার মনে হয়, এই ছোটো ছোটো জিনিসেই আমাদের মধ্যে ভালোবাসা বাড়ে। যা আমাদের আরও বেঁধে বেঁধে রাখে।
বিশেষ দিন থাকা অবশ্যই প্রয়োজন
শন বন্দ্যোপাধ্যায় (অভিনেতা)
• প্রত্যেক বিশেষ কিছুর একটা করে দিন থাকে, ভ্যালেন্টাইনস ডে-ও তেমনই। এ বছরের প্রেমদিবসে তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা, ঘুরতে বেরনো, পরিবারকে সময় দেওয়া— এভাবেই কাটবে দিনটা। ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষ্যে অনেকের নানা স্মৃতিও থাকে। আমার তেমন কিছু নেই। তবে অনেক প্রেমপ্রস্তাব অবশ্যই এসেছে। ভক্তদের থেকে প্রেমপ্রস্তাব খুবই উপভোগ করি। আমার মনে হয়, এটা সাফল্যের একটা অংশ। ভালো কাজ করলে যদি এমন জনপ্রিয়তা পাওয়া যায় বা অনুরাগীদের ভালোবাসা পাওয়া যায়, তাহলে তো দারুণ লাগবেই।
ভবিষ্যতে ভালোবাসার মানুষকে একটা বিশেষ উপহার দিতে চাই। তার সঙ্গে কাটানো প্রতিটা মুহূর্ত যত্ন নিয়ে সাজিয়ে রাখব। আর সেই মুহূর্তগুলো দিয়ে বানানো ফোটোফ্রেম উপহার দেব। এখন কাজ নিয়ে, পরিবার-পরিজন নিয়েই কাটছে। ছোটো পর্দা থেকে বিরতি নিয়েছি অনেকদিন হল। ভালো চরিত্র, গল্প পেলে নিশ্চয়ই ফিরব।
আমার কাছে প্রেম শব্দটা ভালোবাসার সমার্থক। আর প্রেম দিবস এমন একজন মানুষের জন্য যাঁকে ভালোলাগবে, যাঁর ব্যাপারে দিনরাত ভাবব, যাঁকে ছাড়া এক মুহূর্তও কাটতে চাইবে না, যাঁর প্রতি অমোঘ টান থাকে। সেটাই তো ভালোবাসা, প্রেম। সঠিক মানুষ পাশে থাকলে অবশ্য প্রতিটি দিনই ভ্যালেন্টাইনস ডে। তবে বিশেষ দিনের প্রয়োজন তো রয়েছেই। জন্মদিন যেমন বিশেষ, তেমনই। এই দিনটা বাকি ৩৬৪ দিনের থেকে আলাদা।