


প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: গোপীবল্লভপুর বৈষ্ণব তীর্থক্ষেত্র। গ্ৰামের পথে পথে ভেসে আসে হরিনাম সংকীর্তন। বৌদ্ধ, নাথ, বৈষ্ণব ও শৈবদের মিলন ভূমিতে রামের নামকে সামনে রেখে উগ্ৰ সনাতনী ঐক্যের ডাক দেওয়া হচ্ছে। গোপীবল্লভপুর বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী হয়েই রামনামে হিংসার পথ ছাড়ার আবেদন জানালেন অজিত মাহাত।
ঝাড়গ্রামে শাসক ও বিরোধী দলের প্রার্থীরা ভোট প্রচারে নেমে পড়েছেন। ভোট প্রচার ঘিরে আঁচ বাড়ছে। বৈষ্ণবতীর্থ গোপীবল্লভপুরে বিজেপি ও হিন্দু সংগঠনগুলি উগ্ৰ হিন্দুত্ববাদের প্রচার শুরু করেছে। হিন্দুদের উপর আক্রমণ রুখতে সনাতনী ঐক্যের ডাক দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবেশী ভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ রাতারাতি পরস্পরের শত্রু হয়ে উঠেছে। ক্ষমতা ও হিংসার আদর্শে বিশ্বাসীরা গেরুয়া শিবিরে রামের নাম করে আস্ফালন করছেন। ভোটের আগে গ্ৰাম থেকে গ্ৰামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। ভিন্ন সংগঠন থেকে বিজেপিতে ঢোকা সদ্য নেতারা জঙ্গলমহলে বিজেপির ভিত তৈরিতে রামের নাম ব্যবহার করছেন। গোপীবল্লভপুরের তৃণমূল প্রার্থী অজিত মাহাত শালবনী থেকে এদিন প্রচার শুরু করেন। নবজোয়ার যাত্রায় ২০২৩ সালে এখানেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও বীরবাহা হাঁসদার গাড়িতে হামলা চালানো হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি অল্পের জন্য রক্ষা পায়। রাজেশ মাহাত ও তাঁর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। ঘটনায় গ্ৰেপ্তার হওয়া রাজেশই এবার গোপীবল্লভপুরে বিজেপির প্রার্থী। গলায় গেরুয়া পতাকা ঝুলিয়ে ও দলবল নিয়ে জঙ্গলমহলে বিজেপির ভিত গড়ার প্রচার চালাচ্ছেন। অন্যদিকে বিজেপির ছায়াসঙ্গী রামনববমীকে সামনে রেখে হিন্দুত্বের প্রচার শুরু করে দিয়েছে। গোপীবল্লভপুর রামনবমী উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে এদিন হিন্দু নববর্ষ উদযাপন করা হয়। কর্মসূচি থেকে হিন্দুদের উপর আক্রমণ রুখতে সনাতনীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেওয়া হয়। তৃণমূল নেতৃত্বের আশঙ্কা, ভোটের দিন ঘোষণার পর এমন ধরনের আহ্বান এলাকায় অশান্তি তৈরি করতে পারে। অজিত মাহাত বলেন, ঝাড়গ্রামের শালবনী এলাকাকে আমরা প্রচার শুরুর জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছি। এখানেই আমাদের সর্বোচ্চ নেতা ও বীরবাহাকে পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করা হয়েছিল। আক্রমণের পিছনে থাকা ব্যক্তিরা এখন বিজেপির ছাতার তলায় আশ্রয় নিয়েছে। তারা এবং তাদের ছদ্ম সঙ্গীরা রামের নাম করে হিংসার বার্তা দিচ্ছেন। রাতারাতি একটা শ্রেণিকে শত্রু বানানোর চেষ্টা চলছে। বিজেপির কাছে বার্তা রামের নামে হিংসা ছড়াবেন না। রামকে আমরা শ্রদ্ধা করি। ভিন্ন সম্প্রদায় মানুষ আমাদের শত্রু নয়। প্রচারে সেটাই আমরা তুলে ধরেছি। তৃণমূল নেতা নরেন মাহাত বলেন, আমাদের সমাজের কিছু লোক বিজেপিতে ঢুকে সমাজ ভাঙার চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে ধর্ম নিয়ে রাজনীতির ব্যবসা করছে। সম্প্রতির বার্তা ও উন্নয়নের বার্তা নিয়েই আমরা মানুষের কাছে যাব। গোপীবল্লভপুরের বিজেপি নেতা অবনী ঘোষ বলেন, বিজেপির দলের যে গঠনতন্ত্র তা এখন আর মানা হচ্ছে না। সাময়িক স্বার্থে যাকে তাকে দলে ঢোকানো হচ্ছে। তা যা হওয়ার তা হচ্ছে। গোপীবল্লভপুর এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, গোপীবল্লভপুর ধর্মীয় স্থান। সেই জায়গায় ধর্মীয় বিদ্বেষ মাথা চাড়া দিচ্ছে। রীতমতো আতঙ্কিত বোধ করছি। নিজস্ব চিত্র