নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইডেনে তখন জোরকদমে চলছে রাজস্থান রয়্যালসের প্র্যাকটিস। দু’দফায় নেটে সময় কাটিয়ে ঘামতে ঘামতে ড্রেসিং-রুমে ফিরছে বৈভব সূর্যবংশী। তাকে দেখেই এল ব্লক থেকে চিৎকার শুরু। তা নজর এড়াল না বিস্ময় বালকের। যেন মুহূর্তে খুঁজে পেল অতীতের দিনগুলি! একদিন সেও এভাবেই স্বপ্ন দেখত, মাঠে নেমে ব্যাট হাতে ঝড় তুলবে। লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে বৈভব। তার বিধ্বংসী ব্যাটিং ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছে ক্রিকেট মহলে। রবিবারের ম্যাচেও আকর্ষণের কেন্দ্রে ১৫ বছরের কিশোর। শুধু তাকে দেখার জন্য অনেকেরই রাজস্থানের প্র্যাকটিস দেখতে ছুটে আসা। সেই তালিকায় ছিল বেশ কয়েকজন খুদে বৈভব ভক্তও।
তাদের ইচ্ছাপূরণে গ্যালারির সামনে গিয়ে দাঁড়াল বৈভব। দিল ‘উপহার’। যা পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত ভক্তরা। তাদের মধ্যে একজন আব্বাস আহমেদ। কামারহাটিতে বাড়ি। ক্লাস ফাইভে পড়ে। দাদার সঙ্গে ইডেনে হাজির বৈভবকে দেখতে। ভিড়ে সে পিছনে পড়ে গিয়েছিল। বৈভব তাকে সামনে ডেকে নিয়ে গ্লাভস দিয়েছে, বলছিল আব্বাস। বৈভবের মতোই বড় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন ওই খুদের। আব্বাস বলল, ‘বৈভব ভাইয়ার চার-ছক্কা মারা দেখতে খুব ভালো লাগে।’
ইডেনে রবিবার কেকেআরের বিরুদ্ধে রাজস্থানের উদীয়মান তারকার ব্যাটে ঝড় উঠবে কিনা, সময় বলবে। তবে তার প্রস্তুতিতে খামতি রাখল না বৈভব। নেটে পাঁচবার আউট হল ঠিকই, কিন্তু বিক্রম রাঠোরের ভোকাল টনিকের পর নিজেকে শুধরে নিল দ্রুত। মূল পিচের পাশের নেটে বৈভব ফের স্বমহিমায়। তুলে তুলে মারল ছক্কা। বল গিয়ে টপাটপ পড়ল গ্যালারিতে। ক্লাব হাউসের লোয়ার টিয়ারে দাঁড়িয়ে এক ক্রিকেটপ্রেমী বললেন, ‘বৈভব মার রাহা হ্যায়...।’