নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে দীঘায় তৈরি হয়েছে জগন্নাথ মন্দির। আর তার ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে পর্যটকদের জন্য ১৪টি কটেজের পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করছে উত্তরপাড়া পুরসভা। পুরকর্তাদের দাবি, জুন মাসে কয়েকটি কটেজ তৈরির কাজ শেষ হয়ে যাবে। ফলে, তখন থেকেই উত্তরপাড়া সহ রাজ্যের মানুষ সেখানে থাকতে পারবেন। পুরকর্তাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পর্যটন কেন্দ্রে আধুনিক সময়ের যাবতীয় বিলাসের সুযোগ যেমন থাকবে, তেমনই থাকবে পারিবারিক আবহ। দু’য়ের মেলবন্ধনে উত্তরপাড়ার প্রকল্প জনপ্রিয় হবে বলেই দাবি পুরকর্তাদের।
পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ যাদব বলেন, দীঘায় ঘুরতে যাওয়া হোক, আর মুখ্যমন্ত্রী তথা আমাদের দলনেত্রীর নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দির দেখতে যাওয়াই হোক, উত্তরপাড়ার বাসিন্দাদের থাকার জায়গা নিয়ে ভাবতে হবে না। আমরা একই সময়ে অন্তত ১০০ জনের থাকার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করেছি। ১৪টি কটেজে যেমন আধুনিক সুযোগসুবিধা থাকবে, তেমনই থাকবে বিলাসের উপকরণ। সবটাই মিলবে সামান্য খরচে। উত্তরপাড়ার মানুষের পাশাপাশি আমরা বাংলার সব জেলার মানুষকে ওই পর্যটন কেন্দ্রতে থাকার সুযোগ দেব। জুন মাসে একগুচ্ছ কটেজ চালু করে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্র নিয়ে কাজ চলছে।
বহু বছর আগে দীঘার রতনপুরে জমি পেয়েছিল উত্তরপাড়া পুরসভা। সেখানে একটি ছোটমাপের পর্যটন আবাসও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তা সেভাবে চালু রাখা যায়নি। প্রতিযোগিতার আবহে পুরসভার সেই পর্যটন আবাস পিছিয়ে যেতে যেতে এক সময়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পাশাপাশি সেখানে অবহেলায় পড়েছিল প্রায় পাঁচ বিঘে জমি। সম্প্রতি সেই জমিতে থাকা পর্যটন কেন্দ্রকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা করে পুরসভার বর্তমান বোর্ড। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ১৪টি তিনতলা কটেজ। এর প্রতিটিতে ছ’টি করে পরিবার দু’টি করে ঘর নিয়ে থাকতে পারবে। পাশাপাশি, সেখানে থাকবে একটি বিনোদন পার্ক ও সুইমিং পুল। প্রতিটি কটেজের প্রতিটি তলে পৃথক কিচেন থাকবে। অর্থাৎ অতিথিরা নিজেদের প্রয়োজন মতো রান্না করে নিতে পারবেন। আবার, প্রয়োজনে পুরসভার রান্নাঘর থেকেও খাবার নিতে পারবেন।
উত্তরপাড়া পুরসভার নয়া পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থানটিও উল্লেখযোগ্য। নতুন ওই পর্যটন কেন্দ্রের কাছেই রাজ্যের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে নয়া জগন্নাথ মন্দির। স্থানীয় রেল স্টেশন থেকেও এর সামান্যই দূরত্ব। দীঘায় ইতিমধ্যেই নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠার ইঙ্গিত দিয়েছে জগন্নাথ মন্দির। সেখানে জুড়ছে পুরসভার সুলভ মূল্যের পর্যটন কেন্দ্র। সব মিলিয়ে পুরসভার এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে নাগরিক থেকে পুরকর্তা, সব মহলেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে।