Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

উঠে যাচ্ছে খোলা ভ্যাট, এবার প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় কম্প্যাক্টর স্টেশন

উঠে যাচ্ছে খোলা ভ্যাট, এবার প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় কম্প্যাক্টর স্টেশন
  • ৩ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: দেশের মধ্যে সব থেকে অপরিচ্ছন্ন শহরের তকমা পেয়েছে হাওড়া। এক মাসের মধ্যে শহরকে জঞ্জালমুক্ত করতে হাওড়া পুরসভাকে নির্দেশ দিয়েছে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল। এই নির্দেশের ফলে এতদিনে নড়েচড়ে বসেছে পুরসভা। শহরকে পরিচ্ছন্ন করতে উঠেপড়ে লেগেছে তারা। নিয়েছে একাধিক পদক্ষেপ। জঞ্জালমুক্ত করতে প্রথম পদক্ষেপ হল, কোথাও খোলা ভ্যাট রাখা হবে না। যে ভ্যাটগুলি বেহাল, সেগুলিকে দ্রুত সংস্কারের পর সৌন্দর্যায়ন করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে একটি করে কম্প্যাক্টর স্টেশন তৈরির কাজেও হাত দিতে চলেছে তারা।
Advertisement
হাওড়া শহরে অর্ধেকেরও বেশি ওয়ার্ডে এখনও চালু হয়নি কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প। ফলে ৫০টি ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকার আবর্জনা সরাসরি এসে পড়ে ভ্যাটে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে শহরে ২৮৪টি রেজিস্টার্ড ভ্যাট ছিল। ২০টিরও বেশি ওয়ার্ডে ইতিমধ্যেই কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প চালু হওয়ায় ভ্যাটের সংখ্যা ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হচ্ছে। তথ্য বলছে, শতাধিক ভ্যাটের অবস্থা বর্তমানে বেহাল। কোনও কোনও ওয়ার্ডে নিকাশিনালা মিশে গিয়েছে ভ্যাটের সঙ্গে। কোথাও আবার আবর্জনার স্তূপ দেখে ভ্যাটের সীমানা বোঝা যায়। গত বছর ডিসেম্বর মাস থেকেই শহরের খোলা ভ্যাটগুলিকে ঢেকে সৌন্দর্যায়নের কাজ শুরু করেছিল পুরসভা। কিন্তু তাতে শহরের আবর্জনার ছবি না বদলানোয় একাধিক জায়গার জঞ্জালের ছবি তুলে গ্রিন ট্রাইব্যুনালে জমা দেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। তার ভিত্তিতে আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে শহরের সমস্ত জঞ্জাল পরিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছে এনজিটি। সেই ভিত্তিতে ভ্যাট সংস্কার করে সেগুলি সৌন্দর্যায়নের কাজেও গতি আনছে পুরসভা। 
হাওড়া পুরসভার কনজারভেন্সি বিভাগের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত তথা বিধায়ক গৌতম চৌধুরী বলেন, ‘সৌন্দর্যায়নের মাধ্যমে ভ্যাটের ভোল বদলে দেওয়া হবে। ভ্যাটের বাইরের অংশে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প, বিশ্ব বাংলার ছবি ফুটিয়ে তোলা হবে। তবে রাস্তাঘাটে কিংবা নর্দমায় আবর্জনা ফেলার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।’ পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়া উত্তর, হাওড়া মধ্য, হাওড়া দক্ষিণ ও শিবপুর— এই চারটি বিধানসভা এলাকায় একটি করে কম্প্যাক্টর স্টেশন তৈরি হবে। প্রতিটি স্টেশনে তিনটি করে কম্প্যাক্টর মেশিন থাকবে। ইতিমধ্যেই জায়গা চিহ্নিতকরণের কাজ প্রায় শেষের পথে। উত্তর হাওড়ায় কম্প্যাক্টর স্টেশন তৈরির টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘বাড়ি বাড়ি গিয়ে জঞ্জাল সংগ্রহের কাজে গতি আনা হচ্ছে। আবর্জনা সংগ্রহকারী ছোট গাড়ি আরও কেনা হবে।’ শহরকে দ্রুত জঞ্জাল মুক্ত করতে আরও একাধিক পরিকল্পনা কার্যকর করতে পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে বৈঠকে বসছেন মুখ্য প্রশাসক।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ