Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

লক্ষ্য হরমুজ দখল! ইরান অভিমুখে মার্কিন রণতরী

শুধু আকাশপথে নয়, এবার কি ইরানে স্থলযুদ্ধের প্রস্তুতিও নিচ্ছে আমেরিকা? মার্কিন সেনা কি ইরানের মাটিতে পা রাখবে? কয়েক সপ্তাহ ধরে এমনটাই জল্পনা চলছে।

লক্ষ্য হরমুজ দখল! ইরান  অভিমুখে মার্কিন রণতরী
  • ২১ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ওয়াশিংটন: শুধু আকাশপথে নয়, এবার কি ইরানে স্থলযুদ্ধের প্রস্তুতিও নিচ্ছে আমেরিকা? মার্কিন সেনা কি ইরানের মাটিতে পা রাখবে? কয়েক সপ্তাহ ধরে এমনটাই জল্পনা চলছে। প্রায় আড়াই হাজার সেনা নিয়ে এয়ারক্র্যাফ্ট ক্যারিয়ার ইউএসএস ত্রিপোলি ইরানের দিকে রওনা দেওয়ায় সেই জল্পনা আরও বেড়েছে। কিন্তু স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টি নিয়ে চুপ। বরং এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁর জবাব, ‘আমি কোথাও সেনা পাঠাচ্ছি না। আর যদি সেনা পাঠাই, তা আপনাকে জানাতে যাব কেন?’ ওয়াকিবহাল মহল অবশ্য তা নিয়ে নিশ্চিন্ত হতে নারাজ। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বরাবরই চমক দিতে ভালোবাসেন। প্রায় একমাস হতে চললেও, ইরান নতিস্বীকার করেনি। অদূর ভবিষ্যতে যুদ্ধ থামবে, এমন ইঙ্গিতও মেলেনি। তাই ইরানের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী দখল করতে মরিয়া হয়ে স্থলযুদ্ধ শুরু করে দিতেও পিছপা হবেন না ট্রাম্প। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরাও বলছেন, ইরান নিয়ে অধৈর্য হয়ে পড়েছেন ট্রাম্প। তাই সেনা পাঠানোর ভাবনাচিন্তা শুরু করে দিয়েছেন তিনি। 

Advertisement

কিন্তু কেন ইরানে সেনা পাঠাতে চাইছেন ট্রাম্প? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মূলে রয়েছে হরমুজ প্রণালী নিয়ে জট। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পরই জ্বালানি পরিবহণের অন্যতম পথ হরমুজ বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। হরমুজ প্রণালী ইরানের কবজা থেকে মুক্ত করার জন্য বন্ধু দেশগুলির কাছে সাহায্য চেয়েও প্রাথমিকভাবে তা পাননি ট্রাম্প। তাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের উপকূল বরাবর মেরিন কোরকে কাজে লাগাতে পারেন। আর ওই বিশেষ বাহিনীকে নিয়েই রওনা দিয়েছে ইউএসএস ত্রিপোলি। ইরানের নৌবাহিনী কার্যত ধ্বংস হয়ে যাওয়ায়, এক্ষেত্রে সংঘাতের মাত্রাও কম হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আবার অন্য একটি অংশের মতে, মেরিন কোরকে কাজে লাগিয়ে হরমুজ সংলগ্ন দ্বীপের দখল নিতে পারেন ট্রাম্প। ওই দ্বীপগুলি থেকেই জ্বালানিবাহী জাহাজে হামলা চালাচ্ছে তেহরান।  শুধু হরমুজ নয়, ইরানের ‘মুকুট’ বলে পরিচিত খার্গ দ্বীপেও সেনা নামানোর পরিকল্পনা করছে আমেরিকা। গত ১৩ মার্চ খার্গে বোমাবর্ষণ করেছিল আমেরিকা। তবে, তেল উত্পাদনক্ষেত্রগুলিকে টার্গেট করা হয়নি। এছাড়া ইরানের ৯৫০ পাউন্ড ‘হাইলি এনরিচড ইউরেনিয়াম’-এর দিকেও নজর রয়েছে ট্রাম্পের। ত্রিপোলির অভিমুখ কোনদিকে থাকে, এখন সে দিকেই তাকিয়ে বিশেষজ্ঞরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ