ওয়াশিংটন: জীবন-মৃত্যুর মাঝে দাঁড়িয়ে মার্কিন পাইলট। হাতে সময় খুব কম। দ্রুত উদ্ধার করতে হবে ইরানে আটকে পড়া ওই পাইলটকে। কারণ, তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজছে ইরানি সেনাও। রুদ্ধশ্বাস অপারেশনে এই লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসল আমেরিকাই। মার্কিন সেনার এক সিনিয়র আধিকারিক জানিয়েছেন, বাহিনীর অন্যতম জটিল এই অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন বাহিনীর কয়েকশো সদস্য, ডজনেরও বেশি যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার। সাইবার, স্পেস ও গোয়েন্দাদের মিলিত প্রচেষ্টায় নিরাপদে পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে।
হামলা চালাতে গিয়ে ইরানে পালটা আক্রমণের মুখে পড়ে মার্কিন এফ-১৫ই। পার্বত্য এলাকায় ভেঙে পড়ে যুদ্ধবিমানটি। কোনোক্রমেই বেরিয়ে উঁচু পাহাড়ের কোলে আশ্রয় নিয়েছিলেন পাইলট। তাঁকে উদ্ধার করতে শনিবার গভীর রাতে অত্যন্ত গোপনে অপারেশন চালিয়ে ইরান ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ে মার্কিন বায়ুসেনা। ইরানি সেনার কনভয়ও ওই দিকেই এগচ্ছিল। তাদের আটকাতে যুদ্ধবিমান থেকে কনভয়ে বোমা ও গুলিবর্ষণ শুরু করে মার্কিন বাহিনী। থমকে যায় ইরানের কনভয়। এরপর মাটিতেও দু’পক্ষের তুমুল লড়াই শুরু হয়। এর ফাঁকেই স্পেশাল ফোর্সের একটা অংশ পাহাড়ের গোপন আস্তানায় লুকিয়ে থাকা পাইলটকে উদ্ধার করে। সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে কুয়েতে পাড়ি দেয় বিমান। মার্কিন সেনা সূত্রে দাবি, বাহিনীর সমস্ত সদস্য সুরক্ষিত। তবে গুলির লড়াইয়ে একটি হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জখম হন কয়েকজন ক্রু-মেম্বারও। যদিও হেলিকপ্টারটি সুরক্ষিতভাবে অবতরণ করতে সমর্থ হয়েছে। এছাড়া, অপারেশনে অংশ নেওয়া যুদ্ধবিমানগুলিকে সাহায্য করতে আসা একটি এ-১০ এয়ারক্র্যাফ্টও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পারস্য উপসাগরে সেটি ভেঙে পড়ে। পরে পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পাইলটের কাছে হ্যান্ডগানের পাশাপাশি একটি যোগাযোগ ও ট্র্যাকিং যন্ত্র ছিল। ইরানি বাহিনী ও স্থানীয়দের নজর এড়াতে তিনি পাহাড়ের আড়ালে লুকিয়ে ক্রমাগত স্থান পরিবর্তন করতে থাকেন। এক পর্যায়ে উদ্ধারকারী বাহিনীর দিকে এগিয়ে থাকার জন্য উঁচু একটি পাহাড়ে উঠে পড়েন। ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আমেরিকার কাছেও তাঁর অবস্থান অজানা ছিল। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে যে, সিআইএ অবশেষে বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে তাঁর অবস্থান জানতে পারে।
এব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, একদিন আগেও একই ধরনের অপারেশন চালিয়ে এক মার্কিন পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু, এদিনের অপারেশনের জন্য সেকথা প্রকাশ্যে আনা হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, সামরিক ইতিহাসে এই প্রথম শত্রুদেশের মধ্যে ঢুকে দুই পাইলটকে উদ্ধার করা হল। তবে বিগত দু’দশকের মধ্যে এই প্রথম মার্কিন যুদ্ধবিমানকে গুলি করে নামাল ‘শক্রদেশ’। এই তথ্য কিন্তু ট্রাম্পের জন্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়।