


নয়াদিল্লি: যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। তার আগেই ইরানের উপর নরমে-গরমে চাপ তৈরির কৌশল নিচ্ছে আমেরিকা। একদিকে, মার্কিন ‘দূত’ হিসেবে তেহেরানে পৌঁছেছে পাকিস্তানের প্রতিনিধি দল। তাদের দাবি, কূটনৈতিক পথেই হবে সংঘাতের সমাপ্তি। অন্যদিকে, পশ্চিম এশিয়ায় আরও বাহিনী পাঠাচ্ছে ট্রাম্প সরকার। এরমধ্যে চলতি সপ্তাহের শেষে ফের আমেরিকা ও ইরান বৈঠক নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। যদিও তার দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। ফলে যুদ্ধবিরতি শেষ হলে দু’দেশের দ্বৈরথ কোন দিকে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল।
বুধবারই সেনাপ্রধান আসিফ মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তানের প্রতিনিধি দল তেহরান পৌঁছছে। বৃহস্পতিবার ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তাঁরা। সেখানে মূলত আমেরিকার বক্তব্যকেই তুলে ধরেন পাক প্রতিনিধি দল। সোজা কথায়, ইসলামাবাদ বৈঠক ভেস্তে যাওয়ায় ট্রাম্প সরকারের বার্তাবাহক হিসেবে তেহরান পৌঁছেছেন মুনির ও তাঁর টিম। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ শেষের পথে। এই আবহে পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের মন বুঝতে চাইছে ট্রাম্প সরকার। বৈঠকে কী নির্যাস বেরিয়ে আসে, তার ভিত্তিতে পরবর্তী কূটনৈতিক রণকৌশল ঠিক করবে তারা। এরইমধ্যে ইরানের উপর চাপও বাড়াচ্ছে আমেরিকা। আর তা নিয়ে দু’পক্ষের উত্তেজনার পারদও চড়ছে। ইরান কোনও চুক্তি না করলে সামরিক মোকাবিলার বিকল্প খোলা রাখারও বার্তা দিয়েছে পেন্টাগন। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এদিন বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন বাহিনীকে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। তাঁর সাফ বার্তা, ইরান চুক্তি করতে রাজি না হলে ফের যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত আমেরিকা। সেইসঙ্গে হরমুজে অবরোধ আরও জোরদার করারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এরমধ্যে কিছুটা সুর নরমের বার্তা দিয়েছে ইরান। আক্রমণের ঝুঁকি ছাড়াই ওমান উপকূল দিয়ে ধরে জাহাজ চলাচলের প্রস্তাব আমেরিকাকে তারা দিয়েছে বলে সূত্র উল্লেখ করে জানানো হয়েছে।