


নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘর্ষবিরতি চললেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ যাতায়াতে অনিশ্চয়তা কাটেনি। এরমধ্যে গোঁদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে উঠেছে ট্রাম্প সরকারের নয়া সিদ্ধান্ত। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাশিয়ার অশোধিত তেল বিক্রিতে সাময়িক কিছু ছাড় দিয়েছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু, এবার তা প্রত্যাহার করে নিল আমেরিকা। তার জেরে অশোধিত তেলে সরবরাহ আরও ধাক্কা খাবে এবং দামও দ্রুত বৃদ্ধি পাবে বলে একপ্রকার নিশ্চিত তথ্যাভিজ্ঞ মহল।
জানা গিয়েছে, রুশ তেল কেনার উপর মার্কিন অনুমতির মেয়াদ শনিবারই শেষ হয়েছে। এর আগে তা বাড়ানো হলেও এবার আর সেপথে হাঁটেনি মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ভারতের মতো দেশের উপর বিশেষ চাপ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, মার্কিন ছাড়ের সুবিধা নিয়ে নয়াদিল্লি দিনপিছু অতিরিক্ত রুশ তেল কেনা শুরু করেছিল। সংখ্যার নিরিখে যা দৈনিক ২৩ লক্ষ ব্যারেল। কিন্তু, আমেরিকা ছাড়ের মেয়াদ বৃদ্ধি না করায় ভারতকে বিকল্প পথ দেখতে হবে। এই আবহে আমেরিকার কাছে মেয়াদ বৃদ্ধির আরজি জানিয়েছিল ভারত। তবে আমেরিকার তরফে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।
প্রসঙ্গত, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হতেই রাশিয়ার একগুচ্ছ বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল আমেরিকা। রুশ তেল বিক্রিতেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। কিন্তু, ইরান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করে ট্রাম্প প্রশাসন। সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার ট্যাঙ্কারের তেল কেনায় ছাড় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, মার্কিন এই সিদ্ধান্তে একাধিক ইউরোপীয় দেশ আপত্তি তোলে। তাদের বক্তব্য, ইউক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়ার উপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। কিন্তু, তেল বিক্রির অনুমতি দিয়ে তাদের অনেকটা সুবিধা করে দিয়েছে আমেরিকা।