


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সরকার বদলের পরই বাংলার জন্য তৈরি হচ্ছে প্যাকেজ? এরকমই আভাস মিলল কেন্দ্র ও নীতি আয়োগের তরফে। সদ্য নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান তথা নীতি নির্ধারক পদে নিযুক্ত হয়েছেন অর্থনীতিবিদ এবং প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক অশোক কুমার লাহিড়ী। আর তারপরই বাংলায় হয়েছে পালাবদল। এই দুইয়ের যোগফলে এবার আসতে চলেছে সুখবর। পশ্চিমবঙ্গের যে শিল্প গরিমা হারিয়ে গিয়েছিল বিগত শতকের ছয়ের দশকের শেষার্ধ থেকে, সেই হৃতগৌরব ফিরিয়ে আনার প্রয়াস শুরু হচ্ছে। প্রথম ধাপ অবশ্য বৃহৎ শিল্প স্থাপন নয়। কেন্দ্র এবং নীতি আয়োগ চাইছে, বাংলার যে জেলাগুলিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প একদা ছিল সবথেকে বেশি কর্মসংস্থানের উৎস, সেই হাওড়া-হুগলি, দুর্গাপুর-আসানসোলে এমএসএমই সেক্টর, পাটশিল্প, ক্ষুদ্র ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিট, টেক্সটাইল ইত্যাদি শিল্পকে নতুন করে মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনতে। সেখানে শিল্পতালুক গড়ে তুলতে। এজন্য একটি শিল্প পুনরুজ্জীবন প্যাকেজ তৈরি করা হবে। তার রোডম্যাপ তৈরি করবে কেন্দ্রীয় সরকার।
সূত্রের খবর, একাধিক মন্ত্রক পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে তৈরি করবে একটি ব্লু প্রিন্ট। সেই পরিকল্পনা নির্মাণ করবে নীতি আয়োগ। প্রাথমিক ঘোষণা একদিকে যেমন রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে হবে, তেমনই আগামী বছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে থাকবে বাংলার জন্য বিশেষ প্যাকেজ। আর্থাৎ, অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার, ওড়িশার ধাঁচে এবার পশ্চিমবঙ্গও পেতে চলেছে বাজেটে বিশেষ সহায়তা। যদিও কোনো ‘বেঙ্গল প্যাকেজ’ নামক তকমা দেওয়া হবে না। সবটাই হবে প্রকল্পভিত্তিক, যাকে নীতি আয়োগ অঘোষিতভাবে বলছে ‘সোনার বাংলা ফ্রেমওয়ার্ক’। শিল্পসংক্রান্ত একটি টাস্ক ফোর্স তৈরি করার কথাও ভাবা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ এবং জমি ব্যাংক সংক্রান্ত যে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, সেটি সম্পন্ন হওয়ার পর শিল্প মানচিত্র নির্ধারিত হবে। আর যে রাজ্যগুলিতে এইসব পণ্যকে জোগান দেওয়া যাবে, তাদের সঙ্গে স্বাক্ষরিত হতে পারে সমঝোতাপত্র।
কেন্দ্র চাইছে, যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় রাজ্যগুলিও নিজেদের মধ্যে সমঝোতা ও সমন্বয়ের চুক্তি শুরু করুক। যেমন রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে হয়। সেক্ষেত্রে উৎপাদক এবং গ্রহণকারী রাজ্যের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপিত হবে। অর্থাৎ, নিছক বাণিজ্য প্রতিযোগিতা নয়, শুরু হবে বাণিজ্য সহায়তার নতুন একটি পথ চলা। ডানকুনিতে যে শিল্প করিডর এবং ফ্রেট করিডর হচ্ছে, সেটিকেই করা হবে অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। কয়েক বছরের মধ্যে শিল্প করিডর নির্মাণের সঙ্গে একাধিক এক্সপ্রেসওয়ের জন্য জমি অধিগ্রহণও শুরু হতে পারে বাংলায়।