Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

স্বপ্ন দেখার অবাস্তব গল্প

স্বপ্ন দেখতে কি ট্যাক্স লাগে? কীসের স্বপ্ন? ‘অসম্ভব’ শব্দটিকে অভিধান থেকে মুছে ফেলার।

স্বপ্ন দেখার অবাস্তব গল্প
  • ২১ জুলাই, ২০২৫ ১৮:০৭
Prefer us on Google

শান্তনু দত্ত: স্বপ্ন দেখতে কি ট্যাক্স লাগে? কীসের স্বপ্ন? ‘অসম্ভব’ শব্দটিকে অভিধান থেকে মুছে ফেলার। সমস্ত প্রতিকূলতাকে হেলায় হারিয়ে দেওয়ার। সর্বোপরি জয়ী হওয়ার। কেবল অন্যের চোখে নয়, নিজের কাছেও। তানভি তেমনই একজন। সে স্বপ্ন দেখে। বাবার অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণ করতে চায়। সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়াই তার স্বপ্ন। প্রতিজ্ঞা। আর প্রতিকূলতা? সমাজ ব্যবস্থা। যে সমাজ বারবার প্রশ্ন তোলে, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে। অটিজম আক্রান্ত একজন মেয়ে কি সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারে? দু’দশক পর পরিচালনায় ফিরে এই উত্তরের খোঁজ করেছেন অভিনেতা অনুপম খের। 

Advertisement

আমাদের দেশে অটিজম সম্পর্কে মানুষের ধারণা কম। এই সহজ সত্যি মেনে নিয়েই গল্প বুনেছেন অনুপম। সে কারণে অটিজম কী, বুঝতে সময় লেগেছে তাঁর অভিনীত চরিত্র অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল রায়নার। এটা অবশ্য সিনেমার চেনা ছক। সেই ছকেই নাতনি তানভির (শুভাঙ্গী দত্ত) সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছাকে প্রথমে গুরুত্বই দিতে চাননি। ধীরে ধীরে দু’জনের রসায়ন গড়ে ওঠে। উত্তরাখণ্ডের ল্যান্সডাউনের অপরূপ সৌন্দর্যের প্রেক্ষাপটে দাদু-নাতনির খুনসুটি, হাসি-মজা এই ছবির সম্পদ। অটিজম আক্রান্ত তানভির চরিত্রে নবাগতা শুভাঙ্গী অপূর্ব। পরিচালকের আসনে থাকা সত্ত্বেও অনুপম ফের প্রমাণ করেছেন তিনি দক্ষ অভিনেতা। বেশ কয়েকটি দৃশ্যে তাঁর চরিত্রের কষ্ট, যন্ত্রণা, মানসিক চাপ— দর্শককে আবেগতাড়িত করবেই। একটা সময় তানভি জানতে পারে, তার সৈনিক বাবা সমর রায়না (করণ ট্যাকার) অভিযানে গিয়ে শহিদ হয়েছিলেন। এই দৃশ্যে শুভাঙ্গীর অভিনয় মনে দাগ কাটতে বাধ্য। সঙ্গে সাপোর্ট সিস্টেম অনুপম। এরপরই তানভি সিদ্ধান্ত নেয় সে সেনাবাহিনীতে যোগ দেবে। তার এই জার্নিতে সঙ্গ দেন ব্রিগেডিয়ার যোশি (জ্যাকি শ্রফ), সঙ্গীত শিক্ষক রাজ সাব (বোমান ইরানি), মেজর কৈলাস শ্রীনিবাসন (অরিন্দম স্বামী)। তানভির মায়ের ভূমিকায় পল্লবী যোশি।  যত্ন নিয়ে প্রত্যেকটি চরিত্র গড়েছেন পরিচালক। 
প্রথমার্ধে স্বাভাবিক ছন্দে এগিয়ে চলেছে গল্প। ঠিক যেমন মোহনার কাছে নদী... কোনও তাড়াহুড়ো নেই। ধীরগতি, মৃদুবেগ। তাল কাটে দ্বিতীয়ার্ধে।  গল্পের কাহিনি এই পর্বে দ্রুত এগিয়েছে। একের পর এক মোড় ঘোরানো ট্যুইস্টের কী প্রয়োজন ছিল, স্পষ্ট নয়! গল্প বিশ্বাসযোগ্যতা হারায় এখানেই। পরিচালকের কাছে প্রশ্ন, গল্পের শুরু থেকে তানভির যে আচরণ দর্শক আপন করে নেন, তা আচমকা বদলে গেল কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায়? প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে প্রতিমুহূর্তে লড়াই করতে হয়েছে তানভিকে। তা সত্ত্বেও এমন কোনও দৃশ্য তৈরিই হল না, যা প্রেক্ষাগৃহ থেকে বেরিয়েও মনে থেকে যায়। তানভির ধ্রুপদী সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহকে অন্য আঙ্গিকেও ব্যবহার করা যেত। সার্ভিস সিলেকশন বোর্ডের পরীক্ষাকেও সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। অথচ এই অংশটি ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ। অবাস্তব ভিতের উপর দাঁড়িয়ে ক্লাইম্যাক্স। দর্শককে আবেগতাড়িত করার লক্ষ্যে শেষ অংশে তানভির সংগ্রামকে খাটো করা হয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে অনেক দৃশ্যে অনায়াসে কাঁচি চালানো যেত। তাহলে ছবির দৈর্ঘ্য ২ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট হতো না! 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ