


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা পুরসভার ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। আজ, শুক্রবার এই প্রথম ক্লাব রুমে বসল পুরসভার মাসিক অধিবেশন। কারণ বন্ধ রয়েছে অধিবেশন কক্ষ। তাই কাউন্সিলারর্স ক্লাব রুমেই পুরসভার অধিবেশন শুরু হয়। কাউন্সিলররা নিজেরাই ক্লাব রুমের চেয়ার- টেবিল সরিয়ে জায়গাটিকে অধিবেশন কক্ষের বিকল্প জায়গা হিসেবে বানিয়ে নেন। সচিবকে মনে করানো হয়, পুরসভার আইন অনুযায়ী এই মাসিক অধিবেশন বাতিল বা স্থগিত বা আয়োজনের সিদ্ধান্ত একমাত্র পুরসভার চেয়ারপার্সনকেই দেওয়া রয়েছে। কিন্তু তারপরেও কেন মাসিক অধিবেশন কক্ষে তালা মেরে রাখা হয়েছে? কেন তা খোলা হচ্ছে না? এই নিয়ে পুরসভার সচিবকে চিঠিও দেন চেয়ারপার্সন মালা রায়। এদিন বিপুল সংখ্যক তৃণমূল কাউন্সিলররা পুরসভা আসেন। অধিবেশনে পুরসভার কমিশনারের বিরুদ্ধে মুলতবি প্রস্তাব পেশ হয়। অভিযোগ, উনি আইনের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন। ১৯৮০ সালের পুর আইনে যা বলা রয়েছে তার বাইরে গিয়ে কমিশনার কাজ করছেন। তাই ওনাকে অনুরোধ, উনি যেন আইন মোতাবেক কাজ করেন।
অধিবেশন কক্ষ বন্ধ থাকার ঘটনায় আজ পুরসভার সচিবের ঘরে সামনে তুমুল হই হট্টগোল শুরু হয়। পুরসভার নতুন সচিবকে ঘেরাও করেন তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলররা। পুরসভার সচিব নানা অজুহাত দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তোলেন তাঁরা। অপরদিকে পুরসচিব বলেন, আমি এখনও সরকারিভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করিনি। পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলারদের বক্তব্য, তাহলে আপনি কেন সচিবের ঘরে বসে রয়েছেন? কিভাবে অ্যান্টি চেম্বার ব্যবহার করছেন? অভিযোগ তোলা হয়, পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায় ডাকার পরেও তাঁর ঘরে যাচ্ছেন না নতুন পুরসচিব কিশোর কুমার বিশ্বাস। তাই নিয়ে সেক্রেটারির ঘরে যান তৃণমূল কংগ্রেসের দুই মেয়র পারিষদ বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং মিতালী বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক কাউন্সিলর। নতুন পুর সচিবের সঙ্গে তুমুল ঝামেলা হয় তৃণমূল কাউন্সিলরদের। শুরু হয় বাগবিতণ্ডাও। অভিযোগ, এখনও না কী বিরোধী দলের মর্যাদা দেওয়াই হয়নি তৃণমূলকে! রেজুলেশন জমা দেওয়ার পরেও এমন ঘটনায় তাজ্জব অনেকেই। এখনও পর্যন্ত বিধানসভায় বিরোধী দলের ঘর তালাবদ্ধ করেই রাখা হয়েছে। ওই ঘরের সামনেই অবস্থান-বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন তৃণমূল বিধায়করা।