


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সাতসকাতলেই শহরের একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান শুরু করল ইডি। নেপথ্যে সোনা পাপ্পুর মামলা। জমি দখলের মামলায় কলকাতার তিন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই মামলায় কলকাতা পুলিশের ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে আগেই গ্রেপ্তার করেছিল ইডি। সেই সূত্র ধরেই কলকাতা ছাড়াও মুর্শিদাবাদের কান্দিতে আজ শান্তনু সিনহার বাড়িতে হানা দেয় ইডির আরো একটি দল। শহর কলকাতার নামী ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে লালবাজারের পুলিশ আধিকারিকও এই ঘটনায় জড়িয়ে আছে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনা পাপ্পুকে জেরা করে বেআইনি লেনদেন নিয়ে একাধিক তথ্য মিলেছে, সেই সূত্র ধরেই শুরু হয়েছে তল্লাশি। সকাল হতেই কলকাতার একাধিক জায়গায় পৌঁছে যায় তাঁদের পৃথক পৃথক টিম। দক্ষিণ কলকাতার চক্রবেড়িয়া এলাকায় এক ব্যাবসায়ীর বাড়িতে হানা দেন তাঁরা। সোনা পাপ্পুর এই ব্যবসায়ীর সঙ্গে কোথাও যোগসূত্র আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।
এরপর ইডির অভিযানে চালায় কসবা এলাকায়। সেখানে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টরের বাড়িতে তল্লাশি চালায় তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, তিনি কলকাতা পুলিশের ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ। এই পুলিশ অফিসারের সঙ্গে কোনোরকম সম্পর্ক আছে কি না তা নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। অন্যদিকে মধ্য কলকাতার রয়ড স্ট্রিটের এক নামী হোটেলেও হাজির হয়েছে ইডি। এই হোটেলে নিদিষ্ট কিছু বুকিং এবং আর্থিক লেনদেনের নথিপত্র রাখা রয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এছাড়াও কলকাতার একাধিক জায়গায় যখন ইডির তোলপাড়, ঠিক তখনই মুর্শিদাবাদের কান্দিতে সোনা পাপ্পু মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাড়িতে গিয়ে হাজির হয় ইডি অন্যতম আরেকটি দল। তবে কান্দির বাড়িতে পৌঁছে কিছুটা থমকে যেতে হয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দলকে। বাড়ির সদর দরজা ভেতর থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় তড়িঘড়ি ভিতরে ঢুকতে পারেননি তাঁরা। দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে তল্লাশি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন তাঁরা। সোনা পাপ্পু মামলার জাল যে কতটা গভীরে তা আজ দিনের শেষে কলকাতা ও কান্দির এই তল্লাশি মিটলেই অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যেতে পারে এমনটাই আশা রাখছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।