প্রীতেশ বসু, কলকাতা: কারোর ১৭ বছর। তো কারোর ১০ বছর। আবার অনেক পুরসভা চার থেকে পাঁচ বছর জমাই দেয়নি তাদের বার্ষিক হিসাব বা অ্যানুয়াল অ্যাকাউন্টস। কয়েকমাস আগে এমনই ছিল রাজ্যের একাধিক পুরসভার আয়-ব্যয় সংক্রান্ত হিসাব জমা দেওয়ার চিত্র। তবে বকেয়া হিসাব জমা না দিলে আগামী অর্থবর্ষ থেকে সমস্তরকমের আর্থিক সহায়তা বন্ধ হবে। এমন হুঁশিয়ারি দেওয়াতেই রাজ্যের কাছে চটপট হিসাব জমা দিল পুরসভাগুলি। অথচ সেগুলি বছরের পর বছর ফেলে রাখা হয়েছিল। কয়েকমাসের মধ্যেই ২০২৩-২৪ আর্থিক বছর পর্যন্ত হিসাব জমা দিতে কার্যত বাধ্য হল প্রতিটি পুরসভা (আসানসোল ছাড়া)। এখানেই শেষ নয়, তারা চলতি আর্থিক বছরের হিসাবও জমা দিয়ে দিয়েছে ৯০টি পুরসভা। বাকি ২৮টি পুরসভাও মার্চের মধ্যেই তা জমা দেওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে। সব মিলিয়ে কোনো পুরসভার একটি বছরেরও অ্যানুয়াল অ্যাকাউন্টস জমা দেওয়া বাকি থাকবে না। এটা রাজ্যের পূর্ণব্যবস্থার আর্থিক শৃঙ্খলা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি নজির হবে বলেই মত প্রশাসনিক মহলের।
অভিজ্ঞ আমলারা জানাচ্ছেন, একটি আর্থিক বছরে কী কাজ হবে, সেই সংক্রান্ত বাজেটের সঙ্গেই পুরভাগুলির ক্ষেত্রে তার আগের বছরের অ্যানুয়াল অ্যাকাউন্টস জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। না-হলে তাঁদের আর্থিক অনুদান বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। তবে পুরসভাগুলির অনুরোধেই এতদিন শিথিলতা দেখিয়ে এসেছে নবান্ন। সেই ক্ষেত্রে পুর আইনের ৯৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী ইন্টারনাল অডিটের উপর নির্ভর করে কাজ চালিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে ১৬-১৭ বছর হিসাব জমা না দেওয়ায় বিষয়টি সামনে আসতেই পুরসভাগুলির উপর চাপ বাড়াতে শুরু করা হয় রাজ্যস্তর থেকে। কারণ, অডিটের জন্য এই হিসাব পাঠাতে হয় এজি বেঙ্গলকেও। আর অডিট না-হওয়ায় কেন্দ্রের অর্থ বরাদ্দের প্যাঁচেও রাজ্যের পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছিল না। ফলে আর্থিক শৃঙ্খলা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পুরসভা কর্তৃপক্ষ এবং সেখানে নিযুক্ত অর্থদপ্তরের ফিনান্স অফিসারদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ রেখেছিলেন পুরদপ্তর এবং ডিরেক্টর অব লোকাল বডিজের (ডিএলবি) পদস্থ কর্তারা।
কোন পুরসভার কত বছরের হিসাব বাকি আছে তা নিজস্ব পোর্টালে দেখতে পায় রাজ্য অর্থদপ্তরও। সেই সূত্রে জানা গিয়েছে, আগস্ট মাসে বছরের পর বছর হিসাব না দেওয়ায় তালিকায় ছিল ২৩টি পুরসভা। তার মধ্যে মিরিক নোটিফায়েড এরিয়া অথরিটির অ্যানুয়াল অ্যাকাউন্টস জমা দেওয়া বাকি ছিল ১৭ বছর (২০০৭ থেকে ২০২৪)! জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভা প্রায় ১৬ বছর (২০০৮ থেকে ২০২৪) এবং বাদুড়িয়া পুরসভার ১০ বছর (২০১৪ থেকে ২০২৪)। উত্তর দমদম, ধূপগুড়ি, রিষড়া, মুর্শিদাবাদ, কাঁথি, কাঁচরাপাড়া, মাল, মেখলিগঞ্জ, আসানসোল এবং বনগাঁর মতো পুরসভাগুলির অ্যানুয়াল অ্যাকাউন্টস জমা দেওয়া বাকি ছিল বেশ কয়েকবছর। এছাড়া তিন থেকে চার বছরের হিসাব জমা না দেওয়ার তালিকায় ছিল হালিশহর, রানাঘাট, তাম্রলিপ্ত, দাঁইহাট, রাজপুর-সোনারপুর, বালি, ফালাকাটা, গয়েশপুর, হলদিয়া পুরসভা এবং তাহেরপুর নোটিফায়েড এরিয়া। একমাত্র আসানসোল বাদে, প্রতিটি পুরসভাই গত কয়েকমাসে রেকর্ড সময়ের মধ্যে বকেয়া হিসাব জমা দিয়েছে। আসানসোলের মধ্যে নতুন করে কিছু এলাকা আসার ফলে তাদের হিসাব দিতে সময় লাগছে বলে খবর।