


অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: ফের মহিলা গবেষকদের কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠল। এবার খোদ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে। বঙ্গভাষা ও সাহিত্য (বাংলা) বিভাগের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিয়মিত মহিলা গবেষকদের কুপ্রস্তাব দিয়ে চলেছেন। তাতে সাড়া না দিলে মিলছে গবেষণায় বাধা দেওয়ার হুমকিও। সম্প্রতি একাধিক গবেষকের কাছে এই প্রস্তাব আসার খবর ছড়িয়ে পড়ায় ১২ বছর আগে রীতিমতো যৌনহেনস্তার শিকার হওয়া এক গবেষিকাও উপাচার্যের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। অভিযোগ, গবেষণায় যোগ দেওয়ার পর ওই অধ্যাপক ছিলেন কো-গাইড। একই সঙ্গে তিনি বিভাগীয় প্রধানও ছিলেন। তাঁর সইয়ের উপর নির্ভর করত জুনিয়র রিসার্চ ফেলো হিসেবে যোগ দেওয়া ওই তরুণীর ফেলোশিপের টাকা পাওয়ার বিষয়টি। সেই জোরেই অধ্যাপক এসব কীর্তিকলাপ চালাতেন বলে অভিযোগ তাঁর। ইচ্ছে করে শরীর স্পর্শ, কুরুচিকর শারীরিক বর্ণনা কিছুই বাদ যায়নি। অবশেষে তিনি প্রতিবাদ করে আর সেই কো-গাইডের কাছে যাননি। গতমাসে হওয়া সমাবর্তন উৎসবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পিএইচডির শংসাপত্র পেয়েছেন। তবে অভিযোগ, প্রস্তাবে রাজি না-হওয়ায় কলকাঠি নেড়ে দুবছর তাঁর পিএইচ ডি আটকে রেখেছিলেন ওই অধ্যাপক। অবশেষে এক অধ্যাপিকার পরামর্শে উপাচার্যকে অভিযোগ জানিয়ে এসেছেন তিনি। একইভাবে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আরো দুই তরুণীকে। তাঁরা বাধ্য হয়ে গাইড পরিবর্তন করেছেন। এক অধ্যাপক বলেন, অভিযুক্তের এসব কীর্তি ছাত্রছাত্রীরা পর্যন্ত জেনে গিয়েছেন। স্ত্রী দূরের জেলার কলেজে পড়ান। আর এই অধ্যাপক বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টারে থাকেন। ফলে স্ত্রীর প্রত্যক্ষ নজরদারি এড়িয়ে এসব চালিয়ে থাকেন তিনি। তবে উদ্বেগের বিষয়, অভিযুক্ত এখন পিএইচ ডি কমিটিরও সদস্য। অভিযোগ ওঠার আগেই অবশ্য তিনি তাতে ঢুকেছেন। এমনকি, প্রভাব খাটিয়ে দুজন এক্সটার্নাল মেম্বারকেও সরিয়েছেন তিনি। তার পরিবর্তে আগের একজন পুরানো এক্সটার্নাল সদস্যকে পিএইচ ডি কমিটিতে আনা হয়েছে। আরেকজনের পরিবর্তে বিভাগ থেকেই সদস্য হয়েছেন অভিযুক্ত। ফেব্রুয়ারিতেই অভিযোগ উঠেছে ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে। তা সত্ত্বেও তাঁকে কেন পিএইচ ডি কমিটিতে রেখে দেওয়া হচ্ছে? এক্ষেত্রে তো তিনি আরো প্রভাব খাটানোর সুযোগ পাবেন। এ প্রশ্নের উত্তরে উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ না পেলে আমার হাত-পা বাঁধা। নির্যাতিত গবেষকরা বা অন্তত পিএইচ ডি কমিটি থেকেও কেউ লিখিত অভিযোগ করেন, তাহলে আমি ব্যবস্থা নিতে পারি।’ অধ্যাপকের শিকার তরুণীরা অবশ্য পারিবারিক সম্মান, গবেষণায় বিঘ্নের আশঙ্কা করে লিখিত অভিযোগে রাজি হচ্ছেন না। অধ্যাপকরা বলছেন, সাহস দেখিয়ে কাউকে এগিয়ে আসতেই হবে।