Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেখে গিয়েছেন সমস্যা, আশায় ‘বুক বাঁধছেন’ পূর্ব বর্ধমানের তাঁত শিল্পীরা

ভোটের আগে দেশের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন কালনায় তাঁত শিল্পীদের কাছে এসেছিলেন। নিজের হাতে তাঁত বুনতে বুনতেই তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেখে গিয়েছেন সমস্যা, আশায় ‘বুক বাঁধছেন’ পূর্ব বর্ধমানের তাঁত শিল্পীরা
  • ১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কালনা: ভোটের আগে দেশের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন কালনায় তাঁত শিল্পীদের কাছে এসেছিলেন। নিজের হাতে তাঁত বুনতে বুনতেই তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন। তৎকালীন রাজ্য সরকারের জন্য এধরনের শিল্পগুলি পিছয়ে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেছিলেন। তারপর ভাগরথী দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। সরকার বদলে গিয়েছে। নির্মলা সীতারমনদের দল এখন বাংলার মসনদে। তাই তাঁত শিল্পীরা আশার আলো দেখছেন। এই শিল্পের পুনরুজ্জীবনের জন্য সরকার বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করবে বলে তাঁরা আশাবাদী। তাঁদের মতে, তাঁতের শাড়ির যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। কিন্তু অন্য রাজ্যের শিল্পীদের সঙ্গে তাঁরা প্রতিযোগিতায় জিততে পারছেন না। অত্যাধুনিক তাঁত যন্ত্রের পাশাপাশি কাঁচামালের দাম কম হলে এই শিল্প আবার ঘুরে দাঁড়াবে বলে তাঁরা মনে করছেন। 

Advertisement

পূর্ব বর্ধমানের কালনা ছাড়াও ধাত্রীগ্রাম, পূর্বস্থলী সহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা এই শিল্পের উপর নির্ভরশীল। নদীয়া, মুর্শিদাবাদেও এই শিল্প ছড়িয়ে রয়েছে। কালনার তাঁত শিল্পী গৌরবদাস বলেন, সরকার এই শিল্প নিয়ে ভাবনাচিন্তা করলে বহু মানুষ বেঁচে যাবেন। সবার আগে শিল্পীদের প্রশিক্ষণ দরকার। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক মানের শাড়ি বুনতে হবে। সুতো, রং, সহ অন্যান্য কাঁচামাল কিনতে ব্যাপক টাকা খরচ হয়। আধুনিক মেশিন দরকার। সরকার উদ্যোগ না নিলে এই শিল্প বাঁচানো দায় হয়ে উঠবে।
আরেক শিল্পী প্রণব দাস বলেন, দেশের অর্থমন্ত্রী নিজে এসে তাঁত শিল্পীদের সমস্যা দেখে গিয়েছেন। তিনি আলাদা ভাবে শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারও ইচ্ছে করলে বিশেষ প্যাকেজ দিতে পারে। সেটা হলে এই শিল্প আরও এগিয়ে যাবে। রপ্তানির ব্যবস্থা করা দরকার। তাঁত শিল্পের শ্রমিক পাওয়া দায় হয়ে উঠেছে। নতুন করে এই শিল্পের দিকে কেউ ঝুঁকতে চাইছে না। আরেক শিল্পী বলেন, ভোট প্রচারে অর্থমন্ত্রী কোনো আশ্বাস দিয়ে যাননি। কিন্তু তিনি নিশ্চয় শিল্পীদের কথা ভাববেন। কত পরিশ্রম করে একটি কাপড় বোনা হয় তিনি দেখেছেন। তিনি নিশ্চয় সেসব কথা ভুলে যাবেন না। নতুন রাজ্য সরকারও শিল্পীদের কথা ভাববেন। তা নাহলে নতুন করে আর এই পেশায় কেউ আসতে চাইবে না। এমনিতেই বহু তাঁত যন্ত্র শিল্পীদের বাড়িতে বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। অনেকে পেশা বদল করেছেন।
শিল্পীরা বলেন, কালনা মহকুমা ছাড়াও পূর্ব বর্ধমানের আরও বেশ কিছু এলাকায় তাঁত শিল্প এক সময় বিস্তার করেছিল। সেগুলি ধীরে ধরে বন্ধ হয়ে যায়। কাটোয়ার বিধায়ক কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, নতুন সরকার সবার কথা ভাববে।জেলার বাসিন্দারাও চাইছেন, এই শিল্প আবার ঘুড়ে দাঁড়াক। সেই চেনা খটখট শব্দে আবার সরগরম হয়ে উঠুক মহল্লা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ