নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: তার মা ছাড়া কার্যত ঘরে কেউ ছিল না। তাই পরিচিতরাই নিয়ম মেনে পালন করলেন শ্রাদ্ধানুষ্ঠান। তিন মাসের পপির অপঘাতে মৃত্যু হয়েছিল রবিবার। একটি টোটো পিষে দিয়েছিল তার ছোট শরীরটি। তুলতুলে কুকুরছানার চিঁড়েচ্যাপ্টা দেহ কাঁদিয়ে ছেড়েছিল কোন্নগরের ক্রাইপার রোডের রবীন্দ্রভবন লাগোয়া এলাকার বাসিন্দাদের। বুধবার রাতে বসেছিল কুকুরটির শ্রাদ্ধের আসর। সেখানে গিয়ে কাঁদছিলেন বাবুলাল মণ্ডল, শ্রীকান্ত রায়ের মতো বাসিন্দারা। পিণ্ডদানের জন্য হাত সরছিল না যেন। ভিড় করে থাকা আবালবৃদ্ধবণিতাও চোখের জল ফেলেছিলেন। আর ছিল কৌতূহল, এক বেনজির শেষকৃত্যকে ঘিরে।
শ্রাদ্ধের যাবতীয় নিয়ম সেদিন মেনেছিলেন স্থানীয়রা। শুধু একটি নিয়ম মানা হয়নি। মাছভাতের বদলে শ্রাদ্ধের মেনুতে ছিল মাংসভাত। নাহ্ বাসিন্দাদের জন্য নয়, পপির স্বজাতীয়দের জন্য। তারাও সেদিন ভিড় করেছিল শ্রাদ্ধের আয়োজনের পাশে। স্থানীয়দের দাবি, আগাগোড়া ঠায় বসেছিল পপির মা। কেউ কেউ তার কালো চোখের কোণায় জলও নাকি দেখেছিলেন। পপির মা তিনমাস আগে তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছিল। আগেই মারা গিয়েছিল দু’জন। অসহায় পপি’কে সন্তানস্নেহে মানুষ করছিলেন বাবুলাল মণ্ডল। প্রতিবেশীরাও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সাহায্যের হাত। কিন্তু বিধি বাম। প্রাণবন্ত হয়ে ওঠা শিশুটিকে একটি বেপরোয়া টোটো গত রবিবার পিষে দেয়। বাবুলাল বলেন, ‘আমরা সকলেই পথকুকুরদের ভালোবাসি। তাদের নিয়মিত খেতে দিই। পপির শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের সঙ্গে আমরা বেপরোয়া টোটোর হাত থেকে পথকুকুরদের নিরাপত্তা নিয়ে বার্তা দিতে চেয়েছি। তাতেই পপির আত্মা শান্তি পাবে।’ সেদিনের শ্রাদ্ধবাসরের পুরোহিত ছিলেন সোমনাথ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘বহু বছর শ্রাদ্ধকর্ম করছি। এই প্রথম কুকুরছানার শ্রাদ্ধ করলাম। বাসিন্দাদের আবেদন এতটাই আন্তরিক ছিল যে, না করতে পারিনি। এমন নিষ্ঠার অনুষ্ঠান বড় একটা দেখিনি।’ নিজস্ব চিত্র