নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিনক্ষণ আগেই পিছিয়ে দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তাদের নয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১৬ জানুয়ারি প্রকাশ হবে নতুন তালিকা। আর এবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের গত ২৮ অক্টোবরের সেই বিজ্ঞপ্তির কথা জানিয়ে একযোগে নতুন করে বিবৃতি দিয়েছে উত্তর কলকাতার নির্বাচনী আধিকারিক এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। আর এই বিবৃতিই নতুন জল্পনা উস্কে দিয়েছে। পুর এলাকার বাসিন্দাদের প্রশ্ন, নভেম্বরে না হোক, কলকাতা, হাওড়া সহ সাত পুরসভার ভোট ডিসেম্বরে হবে তো? নাকি রাজ্য সরকার বা রাজ্য নির্বাচন কমিশন পুর-ভোট করাতে এই নয়া ভোটার তালিকার জন্য অপেক্ষা করবে।
যদিও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কোনো সম্পর্ক নেই। দু’টি পৃথক সাংবিধানিক সংস্থা। কিন্তু জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের তরফে দেওয়া এ ধরনের বিবৃতি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। কারণ আইনি এক্তিয়ার থাকলেও, রাজ্য নির্বাচন কমিশন পুর এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য কোনো পৃথক ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে না। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তালিকা অনুযায়ীই ভোট করায় তারা। আর সে কারণেই এই বিবৃতি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। যদিও, প্রশাসনিক কর্তাদের একাংশের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের সঙ্গে রাজ্যের পুর-ভোট করানো বা না করানোর কোনো সম্পর্ক নেই। আগের ভোটার তালিকা ধরেও নির্বাচন করানো যেতেই পারে।
এদিন কলকাতা পুরসভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে নিয়ে বৈঠক করেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক তথা কলকাতা উত্তরের জেলা নির্বাচনী আধিকারিক স্মিতা পাণ্ডে। পরে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, উত্তর কলকাতায় মোট ৫৮৫টি নির্বাচনী কেন্দ্রে ১৮৩৫টি বুথ রয়েছে। বহুতলগুলিতে নয়া ভোট কেন্দ্র স্থাপনের জন্য নতুন আবেদন করা হয়েছে। এরকম ৩৯টি নতুন ভোট কেন্দ্র তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। সমস্ত রাজনৈতিক দলকে বিষয়টি জানানোর পাশাপাশি এব্যাপারে তাদের অভিমত জানতে চাওয়া হয়েছে। এদিনের সর্বদলীয় বৈঠকে কংগ্রেস-বিজেপি-সিপিএমের তরফে প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। কংগ্রেস ও সিপিএমের দাবি, নির্বাচন কমিশন আগে থেকেই সবকিছু নির্দিষ্ট করে দিচ্ছে। আর স্বল্প সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়নের কথা বলছে। তারা একযোগে সরকারি সম্পত্তিতে নির্বাচনী কেন্দ্র করার পক্ষে সওয়াল করেছে।
তবে এদিনের এই নতুন বিবৃতি ঘিরে ডিসেম্বরে ভোট হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যেও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বা তৃতীয় সপ্তাহে পুর-ভোট করানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। এখন ভোটের দিন প্রস্তাব করবে রাজ্য। আর তা ঠিকঠাক মনে হলে তাতে সিলমোহর দেবে কমিশন। প্রশাসনিক মহলের ব্যাখ্যা, তেমনটা করতে হলে, গত ৭ জুলাই কিংবা ১ অক্টোবরের ভোটার তালিকা অনুযায়ী কলকাতা, হাওড়া সহ সাত পুরসভার ভোট হবে। কালীপুজো-দীপাবলীর ছুটির পর ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ শুরু করারও প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু, সরকার যদি মনে করে, আগামী বছরের চুড়ান্ত ভোটার তালিকার অপেক্ষা করবে, সেক্ষেত্রে তাঁরা হস্তক্ষেপ করবেন না বলেই মত কমিশনের কর্তাব্যক্তিদের।



