Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তেহট্টের নিশ্চিন্তপুরে এবার দুর্গাপুজো নিয়ে অনিশ্চয়তা

নিশ্চিন্তপুর বটতলাপাড়া পুজো কমিটির কোনও কর্তায় সরকারি অনুদানের চেক নিতে এলেন না। ফলে ওখানে এবছর দুর্গাপুজো নিয়ে অনিশ্চয়তার মেঘ।

তেহট্টের নিশ্চিন্তপুরে এবার দুর্গাপুজো নিয়ে অনিশ্চয়তা
  • ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তেহট্ট:  নিশ্চিন্তপুর বটতলাপাড়া পুজো কমিটির কোনও কর্তায় সরকারি অনুদানের চেক নিতে এলেন না। ফলে ওখানে এবছর দুর্গাপুজো নিয়ে অনিশ্চয়তার মেঘ। সরকারের দেওয়া অনুদান না নেওয়ায় সেই আশঙ্কা আর দৃঢ় হয়েছে। বেশ কয়েকদিন আগেই তেহট্ট দীনবন্ধু মিত্র মঞ্চে পুজো কমিটিগুলির হাতে অনুদানের তুলে দেওয়া হয়েছে। ১৩৯টি পুজো কমিটির মধ্যে শুধুমাত্র বটতলাপাড়া পুজো কমিটির কেউ চেক নিতে আসেনি। ওই পুজো কমিটিরও প্রতি বছর অনুদান পায়। 

Advertisement

এলাকায় গিয়ে দেখা যায় নিশ্চিন্তপুর বটতলাপাড়া এলাকায় পুজোর আনন্দ যেন ফিকে হয়ে গিয়েছে। মণ্ডপে দুর্গামায়ের কাঠামোয় মাটির প্রলেপ থাকলেও এখনও কাজ বাকি রয়েছে। কবে ওই কাজ শেষ হবে আর কেই বা পুজোর দায়িত্বর নেবে। কারণ এক নাবালক খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে দু’জন গণপিটুনিতে মারা যায়। তার জেরে চলছে পুলিশি ধড়পাকড়। ফলে গ্রাম ফাঁকা। এখন কে পুজোর দায়িত্ব কে নেবে? এই প্রশ্নই সবাই করছেন। আর তো মাত্র কয়েকদিন পরই পুজো।  
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত গণপিটুনির ঘটনায় ১৫জন গ্রামবাসীকে ধরা হয়েছে। আর নাবালক খুনের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একজন গণপিটুনিতে জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। 
প্রসঙ্গত, গত ৬ সেপ্টেম্বর শনিবার নিশ্চিন্তপুর বটতলাপাড়ায়র বাড়ির পিছনের একটি ডোবা থেকে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র স্বর্ণাভ বিশ্বাসের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। বালক খুনে জড়িত সন্দেহে গণপ্রহারে মৃত্যু হয় প্রতিবেশী এক দম্পতির। বাড়ি থেকে ওই দম্পতি ও তাদের বড় বউমাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বটতলা পুজো মণ্ডপের সামনে। ওখানে  গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ সেখানকার প্রায় ২০০ জনের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করে ধরপাকড় চালাচ্ছে। আর তাতেই ঘরছাড়া বহু পরিবার। রাস্তা দিয়ে দূরের গ্রামে যাওয়ার কয়েকটি গাড়ি যাতায়াত করলেও বাকি সময় গ্রাম পুরোপুরি নিস্তব্ধ। 
এদিন সেখানে গিয়ে দেখা যায় মণ্ডপের সামনে গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনাস্থল পুলিশ ঘিরে রেখেছে। তার সামনে ও পাশে পুলিশের পিকেটও রয়েছে। দেখা মণ্ডপের ভিতরে দুর্গাপ্রতিমা গড়ার কাজ চলছিল। ‌এখনও প্রতিমার বহু কাজ বাকি রয়েছে। মণ্ডপের পাশে থাকা একটি বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সেখানে আপন মনে খেলা করছে এক শিশু। সে আদো আদো গলায় বলে ‘দুগ্গাপুজো’ হবে তো। একজন তরুণীর কাছে এই পুজোর দায়িত্বে কারা আছে রয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি কিছু জানি না। সকলের এখই প্রশ্ন গ্রামে এবছর দুর্গাপুজো হবে তো? 
এখন কৃষি প্রধান নিশ্চিতপুরে চলছে পাট ছাড়ানো ও শুকানো। তাছাড়া জমিতে ধান ও সবজি রয়েছে। গ্রামের মানুষ পাট বিক্রি করে পুজোর বাজার করেন। পুলিশি ধরপাকড়ের জেরে গ্রাম ছাড়া বহু পরিবার। তাঁদের জমির পাট জলে জাঁক দেওয়া অবস্থাতেই পড়ে রয়েছে। গবাদি পশুগুলিকে দেখার কেউ নেই। তাই পুজো হওয়া নিয়ে ধন্দে এলাকার প্রবীণ থেকে শিশুরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ