সংবাদদাতা, রামপুরহাট: কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠ ও রামপুরহাটে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকান বন্ধ থাকবে কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। উৎসবের প্রস্তুতি বৈঠকে কৌশিকী অমাবস্যার তিনদিন মদ বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ফলাও করে ঘোষণা করা হলেও উৎসবের মুখেই সেই সিদ্ধান্ত থেকে কার্যত পিছু হটল স্থানীয় প্রশাসন।
গত ৮আগস্ট তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের(টিআরডিএ) কার্যালয়ে কৌশিকী অমাবস্যার প্রস্তুতি বৈঠক হয়। সেখানে টিআরডিএর চেয়ারম্যান তথা অতিরিক্ত জেলাশাসক(উন্নয়ন) বুলবুল বাগচি, মহকুমা শাসক অশ্বিন বি রাঠোর, এসডিপিও মুকিরি প্রিন্স কমল তেজা, বিধায়ক ধ্রুব সাহা, টিআরডিএর অন্যতম সদস্য তথা মন্দির কমিটির সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় সহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উৎসবে ধর্মীয় পরিবেশ ও পবিত্রতা বজায় রাখার লক্ষ্যে রামপুরহাট থেকে তারাপীঠ পর্যন্ত সমস্ত মদের দোকান তিন দিন বন্ধ রাখার প্রস্তাব ওঠে। সর্বসম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়। মহকুমা শাসক থেকে বিধায়ক সংবাদ মাধ্যমের সামনে এই কড়া বিধিনিষেধের কথা নিশ্চিত করেছিলেন। তবে উৎসবের মাত্র তিনদিন আগে প্রশাসনিক সুর সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। সোমবার মহকুমা শাসক বলেন, কৌশিকী অমাবস্যার সময় মদের দোকান বন্ধ রাখার বিষয়ে উপর মহল থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো লিখিত সরকারি নির্দেশিকা বা অর্ডার আসেনি। নির্দেশ না এলে এবিষয়ে পদক্ষেপ সম্ভব নয়। বিধায়কও প্রশাসনের উপর মহলের সিদ্ধান্তের দিকেই নির্দেশ করছেন। এব্যাপারে জেলা আবগারি দপ্তরের সুপারিন্টেন্ডেন্ট তনয় গুহ বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত এই সংক্রান্ত কোনও অর্ডার হয়নি। অর্ডার হলেই জানিয়ে দেওয়া হবে।’ ফলে আগের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়া নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। আবগারি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কৌশিকী অমাবস্যার সময় এই অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ মদ বিক্রি হয়। রামপুরহাটের মনসুবা মোড় থেকে তারাপীঠের বেসিক মোড় পর্যন্ত প্রায় ২৫টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের কাউন্টার সারারাত খোলা থাকে। গতবছর উৎসবের মাত্র তিনদিনে ৪ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকার মদ বিক্রি হয়েছিল। যা তার আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৫৯লক্ষ টাকা বেশি ছিল। ফলে টানা তিনদিন মদ বিক্রি বন্ধ থাকলে রাজ্য সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রশাসনের এই দোলাচলের জেরে ক্ষোভ ও কৌতূহল দুটোই বাড়ছে। সাধারণ পুণ্যার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা মদের দোকান বন্ধের প্রাথমিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে, রাজস্ব ক্ষতি এবং সুরাপ্রেমীদের অসন্তোষের কারণেই প্রশাসন শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে চলেছে কি না তা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। বিধায়ক ধ্রুব সাহা বলেন, বিষয়টি প্রশাসন দেখছে।