বিশেষ সংবাদদাতা, আগরতলা: ত্রিপুরায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি নির্বাচন ঘিরে ফের অনিশ্চয়তা। গত সাত আট মাস ধরেই রাজ্য সভাপতির নাম বাছাই এবং নির্বাচন নিয়ে দলের অন্দরে চলছে ‘নীরব লড়াই’। রথযাত্রার দিন নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল। প্রদেশ বিজেপির রিটার্নিং অফিসার সমরেন্দ্র চন্দ্র দেবের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২৯ জুন রাজ্য সভাপতি নির্বাচন হবে। বিকাল ৩ টায় ফলাফল ঘোষণা। যদিও ঘন্টাখানেকের মধ্যেই ফের এক বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। সেখানে রিটার্নিং অফিসার জানিয়ে দেন, নির্বাচনের যে দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়েছিল তা বাতিল করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়েছে। এই ঘটনাবলী নিয়েই অস্বস্তির মুখে পড়েছে ত্রিপুরার শাসক দল।
বিভিন্ন মহলের কটাক্ষ, বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক হল বলে দাবি করা বিজেপি ত্রিপুরার মতো ছোট একটা রাজ্যে দলের সভাপতি ঠিক করতে হিমশিম খাচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সম্মতি ছাড়া এই বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার কথা নয়। আর শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে বিজ্ঞপ্তি জারি করে কেনই বা বাতিল করা হল তা বোধগম্য নয়! এক্ষেত্রে বিজেপি গোষ্ঠীকোন্দলই এর কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। দলীয় সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা দলের পরবর্তী রাজ্য সভাপতি হিসেবে চাইছেন তাঁর আস্থাভাজন মন্ত্রী টিংকু রায়কে। অন্যদিকে দলের আর এক পছন্দের নাম হল, বর্তমান সম্পাদক ও বিধায়ক ভগবান দাস। এই নিয়ে দুই শিবিরের টানাপোড়েনেই মুখ পড়ল বিজেপি। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা বলেন, এটি বিজেপির আভ্যন্তরীণ বিষয়। একইসঙ্গে তাঁর কটাক্ষ, আগে নিষ্ঠাবান নেতারা বিজেপি চালাতেন। এখন কর্পোরেট স্টাইলে চলে এই দল। পুরনো নেতাদের কোনও ভূমিকা নেই।