সংবাদদাতা, হলদিবাড়ি: অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে নিজস্ব পাকা ঘর থাকলেও খোলা আকাশের নীচে ত্রিপল টাঙিয়ে চলছে শিশুদের রান্না। হলদিবাড়ি ব্লকের দেওয়ানগঞ্জ গ্ৰাম পঞ্চায়েতের ২২৪ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের এমন পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে অভিভাবকদের মধ্যে। পরিবারের কেউ চাকরি পাননি বলে তালা মেরে দিয়েছেন জমিদাতা।
প্রসঙ্গত, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের হেল্পার ও কর্মী নিয়োগের ফাইনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। লিখিত পরীক্ষায় পাস করেও চাকরি না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পরবর্তীতে জমিদাতা ক্ষীরোদচন্দ্র রায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে যান। তারপর গত ১০ মাস ধরে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ২৩ জন শিশু ও প্রসূতির রান্না চলছে ত্রিপল টাঙিয়ে।
এক শিশুর অভিভাবক রেণুকা বর্মন জানান, ১০ মাস ধরে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ থাকায় কার্যত খোলা আকাশের নীচেই শিশু-প্রসূতিদের জন্য চলছে রান্না। ঘরে তালা থাকায় শিশুদের পড়াশোনাও করানো হয় না। বৃষ্টি হলে সমস্যা আরও বাড়ে। অন্যের বাড়িতে গিয়ে শিশুরা বসে থাকে। আমরা চাই, দ্রুত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি খোলার ব্যবস্থা করুক প্রশাসন।
অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটির হেল্পার ইতিবালা রায় পাটোয়ারী বলেন, ত্রিপলের নীচে রান্না করতে খুবই অসুবিধা হয়। বৃষ্টি হলে সমস্যা আরও বাড়ে। কষ্ট হলেও শিশুদের জন্য প্রতিদিনই রান্না করি। অন্যদিকে, হলদিবাড়ি ব্লকের শিশুবিকাশ প্রকল্প আধিকারিক চিত্রা দাস জানান, হলদিবাড়িতে কিছুদিন হল দায়িত্ব গ্ৰহণ করেছি। কী হয়েছে জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখব। তালা বন্ধ থাকলে তা খোলার ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।
জমিদাতা ক্ষীরোদবাবুর দাবি, স্ত্রী লিখিত পরীক্ষায় পাশ করলেও ওঁকে চাকরিতে নেওয়া হয়নি। তাই চাকরি না হওয়া পর্যন্ত তালবন্ধই রাখব। নিজস্ব চিত্র।