নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: সর্বজনীন মণ্ডপ থেকে বনেদি বাড়ি, পুজোয় গোবিন্দভোগ চাল দিয়ে উমার ভোগ রান্না হয়। সেকারণে পুজোর সময় এই চালের চাহিদা অনেকটাই বেড়ে যায়। দেড় মাস আগে যে চাল খোলাবাজারে কেজি প্রতি ৮০-৯০টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, তা এখন ২০০-২২০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কেন এই চালের দাম বাড়ল তা বুঝতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। আমজনতা চালের দাম শুনে আঁতকে উঠছেন।
পূর্ব -পশ্চিম মেদিনীপুর ও বর্ধমান থেকে ঝাড়গ্রামে গোবিন্দভোগ চাল আসে। পার্শ্ববর্তী রাজ্য থেকেও চাল নিয়ে আসা হয়। ঝাড়গ্রাম জেলায়ও এখন অল্প পরিমাণ গোবিন্দভোগ ধানের চাষ শুরু হয়েছে। পুজোর ঠিক আগে এই চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতা থেকে হোটেল, রেস্তরাঁর মালিকরা সমস্যায় পড়ছেন। খুচরো ব্যবসায়ী থেকে হোলসেল ব্যবসায়ীরা কম পরিমাণ চাল রাখছেন। পুজোর জন্য যতটুকু চাল প্রয়োজন তা কেনা হচ্ছে। সাধারণ ক্রেতাদের অনেকে দাম শুনে ফিরে যাচ্ছেন। যাঁদের একান্ত কিনতেই হবে তাঁরা পরিমাণে কম কিনছেন। পুজোর সময় জেলার হোটেল, রিসর্ট, রেস্তরাঁ, হোম-স্টেগুলি পর্যটকদের সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করে থাকে। পর্যটকদের প্রথম পছন্দ সুগন্ধী গোবিন্দভোগ চালের বাসন্তী পোলাও, পায়েস সহ নানা পদ। হঠাৎই দাম বেড়ে যাওয়ায় হোটেল, রেস্তরাঁর মালিকরা বিপদে পড়েছেন। খোলা বাজারের চাল বিক্রেতারা দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ বুঝে উঠতে পারছেন না।
দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব, পশ্চিম বর্ধমান, হুগলি, নদীয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, হাওড়া ও উত্তর ২৪পরগনায় ভালো গোবিন্দভোগ চাল উৎপাদন হয়। বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। এই চালের দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছে। অনেকে বলছেন, বিদেশে গোবিন্দভোগ চালের চাহিদা ব্যাপকহারে বেড়ে গিয়েছে। বিদেশে গোবিন্দভোগ চালে বিরিয়ানি হয়। তাই হু হু করে দাম বাড়ছে।
এছাড়া ধানের ফলনও কিছুটা মার খেয়েছে। তাই এই দামবৃদ্ধি। তাতে ক্রেতাদের মাথায় হাত পড়লেও চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। ঝাড়গ্রাম শহরের বাছুরডোবা এলাকার চাল ব্যবসায়ী সুভাষ দাস বলেন, দেড় মাস আগেও গোবিন্দভোগ চাল ৮০টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। এখন ২২০টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। পুজোর সময় এই চালের চাহিদা বাড়ে। কিন্তু এবার বেশি চাল মজুত করতে ভয় পাচ্ছি। আর এক ব্যবসায়ী পিন্টু খাঁ বলেন, দাম শুনেই অধিকাংশ ক্রেতারা ফিরে যাচ্ছেন। হোটেল, রেস্তরাঁগুলি অল্প পরিমাণে চালের অর্ডার দিচ্ছে। হঠাৎ করে এত দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ বুঝতে পারছি না। জেলার বড় চাল ব্যবসায়ী ভগবান আগরওয়াল বলেন, ছ’মাস আগে থেকে গোবিন্দভোগ চালের দাম বাড়তে শুরু করেছে। মাঝে দাম কমে গিয়েছিল। এখন আবার দাম বেড়েছে। ঝাড়গ্রাম জেলা কৃষি বিপণন দপ্তরের আধিকারিক শ্রাবণী চক্রবর্তী এদিন বলেন, গোবিন্দভোগ চালের বিক্রির বিষয়টি আমাদের দপ্তর দেখেনা।