নয়াদিল্লি: জামিন পেলেন প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদ। মায়ের অস্ত্রোপচারের সময় পাশে থাকা ও প্রয়াত কাকার শোকসভায় যাওয়ার জন্য ১৫ দিনের জন্য অন্তর্বর্তী জামিন চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন তিনি। কিন্তু দিল্লির নিম্ন আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পর দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন উমর। শুক্রবার হাইকোর্ট শর্তসাপেক্ষে তিন দিনের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করে। ১ জুন থেকে ৩ জুন পর্যন্ত জেলের বাইরে থাকতে পারবেন দিল্লি দাঙ্গায় অন্যতম অভিযুক্ত উমর। বিচারপতি প্রতিভা সিং ও বিচারপতি মধু জৈনের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী জামিনের জন্য উমরকে এক লক্ষ টাকার বন্ড জমা দিতে হবে। এছাড়া জামিনে মুক্ত থাকাকালীন দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলের বাইরে যেতে পারবেন না তিনি। জেল কর্তৃপক্ষকে যে ঠিকানা দিয়েছেন, সেখানেই থাকতে হবে উমরকে। হাসপাতালে মায়ের কাছে যাওয়া ছাড়া অন্য কোথাও যেতেও পারবেন না প্রাক্তন ছাত্রনেতা। এছাড়া উমর মাত্র একটি মোবাইল ফোন নম্বরই ব্যবহার করতে পারবেন বলেও নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এর আগে ১৯ মে নিম্ন আদালত উমরের আবেদন খারিজ করে জানিয়েছিল, অন্তর্বর্তী জামিনের জন্য উমরের দেখানো কারণ যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে দিল্লি দাঙ্গায় অপর অভিযুক্ত শারজিল ইমাম ও উমর খালিদের জামিন খারিজ করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। সেই সিদ্ধান্ত কতটা সঠিক ছিল, তা এবার পর্যালোচনা করতে চলেছে শীর্ষ আদালত। এর জন্য বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা হতে পারে। ইউএপিএ সংক্রান্ত মামলায় দুটি ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সম্প্রতি রাষ্ট্রদ্রোহ আইন ইউএপিএতে অভিযুক্ত জম্মু ও কাশ্মীরের এক বাসিন্দাকে জামিন দেয় বিচারপতি বি ভি নাগরত্না ও বিচারপতি উজ্জ্বল ভুয়ানের ডিভিশন বেঞ্চ। শীর্ষ আদালত জানায়, কঠোরতম ইউএপিএতেও অভিযুক্ত জামিন পেতে পারে। ডিভিশন বেঞ্চ মন্তব্য করে, ‘জামিন দেওয়াটাই নিয়ম। জেল ব্যতিক্রম।’ অথচ এর আগে ইউএপিএতে মামলা থাকায় খালিদ এবং ইমামের জামিন খারিজ করে দেয় বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ। দুই বেঞ্চের এই সংঘাত মেটাতেই শীর্ষ আদালতের তৃতীয় একটি বেঞ্চ সুপারিশ করেছে যে, বিষয়টির মীমাংসা বৃহত্তর বেঞ্চে হওয়া উচিত।
তাত্পর্যপূর্ণভাবে এদিনই দিল্লি দাঙ্গায় অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি এবং অন্য মামলায় ইউএপিএতে অভিযুক্ত একজনের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছে সুপ্রিম কোর্টের দুটি পৃথক ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি পি বি ভারালের বেঞ্চ এদিন আবদুল খালিদ সাইফি ও তাসলিম আহমেদ নামে দিল্লি দাঙ্গায় অভিযুক্ত দু’জনকে ছয় মাসের জন্য অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছে। এদিনই সুহেল আহমেদ ঠোকার নামে ইউএপিএতে অভিযুক্তকে জামিন দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চ। সুহেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনে সদস্য নিয়োগ, যুবসমাজের মগজ ধোলাইয়ের মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সুপ্রিম কোর্ট এদিন জানিয়েছে, সুহেল ইতিমধ্যেই অনেকটা সময় জেলে কাটিয়ে ফেলেছে। অথচও এই মামলার নিষ্পত্তি হতে সময় লাগবে। তাই শর্তসাপেক্ষে সুহেলকে জামিন দেওয়া হচ্ছে। ছবি: পিটিআই