কিয়েভ: মুরমানস্ক, ইরকুটস্ক, ইভানোভো, রিয়াজান ও আমুর। রবিবার রাশিয়ার এই পাঁচ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে নিখুঁত ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন স্পাইডার ওয়েব’। অর্থাৎ ‘মাকড়সার জাল’। মাকড়সার মতোই জাল বিস্তার করে আঘাত হেনেছে কিয়েভের তৈরি ফার্স্ট পার্সন ভিউ (এফপিভি) ড্রোন। রুশ ভূখণ্ডের সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার ভিতরে ঢুকে অভিযান চালানো হয়েছে। রবিবার রাতেই হামলার বিষয়টি স্বীকার করে মস্কো। ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ-র দাবি, কমপক্ষে ৪১টি রুশ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে টিইউ-৯৫, টিইউ-২২ বোমারু বিমান ও অত্যাধুনিক এ-৫০। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই দুই বোমারু বিমানের সাহায্যে কিয়েভে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া। রবিবার তারই একটা বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। হামলার পরেই বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদামির জেলেনস্কি। জানান, দেড় বছর ধরে এই অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তাঁর দৃঢ় বার্তা, ইউক্রেন একা হাতে এই সাফল্য পেয়েছে। কয়েক মাস আগেই হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বচসায় জড়িয়েছিলেন জেলেনস্কি। সেই সময় কটাক্ষের সুরে ট্রাম্প বলেছিলেন, আমেরিকার সাহায্য ছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধে টিকবে না। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রবিবার মস্কোর সঙ্গে ওয়াশিংটনকেও কড়া জবাব দিলেন জেলেনস্কি।
রবিবার সীমান্তের ওপারে বসেই অভিযান চালিয়েছে ইউক্রেন। তাহলে রাশিয়ায় ড্রোন পৌঁছল কীভাবে? সূত্রের খবর, আগেই ট্রাকে করে বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন রাশিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ট্রাকের মধ্যে কাঠের বাক্সে সেগুলি রাখা ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিমানঘাঁটির কাছে চলে যায় ট্রাক। তারপর রিমোটের সাহায্যে খুলে দেওয়া হয় বাক্সের ঢাকনা। একের পর এক সামরিক বিমানে আঘাত হানতে শুরু করে ১১৭টি এফপিভি ড্রোন। এই ড্রোনের সামনে থাকা ক্যামেরা প্রত্যেক মুহূর্তের ছবি পাঠায়। বিশেষ গগলসের সাহায্যে তা দেখতে পারেন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাক ব্যক্তি। বিস্ফোরক সমেত এফপিভি ড্রোনের খরচ আনুমানিক ৪২ হাজার টাকা। যা অন্যান্য অস্ত্রের তুলনায় অনেকটাই সস্তা। এসবিইউ-র দাবি, রাশিয়ায় ৩৪ শতাংশ সামরিক বিমান ধ্বংস হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার। ইউক্রেনের হামলাকে ‘পার্ল হারবার’ আখ্যা দিয়েছে রুশ সংবাদমাধ্যম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন রণতরীর উপর এভাবেই আচমকা হামলা চালিয়েছিল জাপানি ফৌজ।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, পাঁচ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন অভিযান চালায় ইউক্রেনীয় বাহিনী। মস্কোর দাবি, ইরকুটস্ক আর মুরমানস্ক ছাড়া বাকি সব অঞ্চলে ড্রোন নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ড্রোন হামলার জেরে বেশকিছু সামরিক বিমানে আগুন লেগে যায়। তবে দমকলের সাহায্যে দ্রুত আগুন নেভানোর দাবি করেছে মস্কো। একইসঙ্গে ক্রেমলিন জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক সন্দেহভাজন ট্রাক চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।