নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধে কমবেশি সিংহভাগ দেশ পক্ষ গ্রহণ করলেও ভারত ২০২২ সাল থেকেই ভারসাম্যের কূটনীতি বজায় রেখেছে। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ভারতের ভালো সম্পর্ক। আবার ইউক্রেনকেও বারংবার বলেছে, আমরা কারও পক্ষে নয়, আমরা শান্তির পক্ষে। আর যুদ্ধ নয়,একমাত্র আলোচনাই পারে শান্তি আনতে। দীর্ঘ দিন ধরেই ইউক্রেন ভারতের এই অবস্থানে সন্তুষ্ট নয়। যদিও প্রকাশ্যে কোনোদিন ভারত সম্পর্কে আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহণ করেনি। এতদিন পর রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভায় যোগ দিতে এসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভি জেলেনস্কি বলেছেন, ভারত যেভাবে বাণিজ্যের আদানপ্রদান করে বিশেষ করে জ্বালানি ক্রয়ের মাধ্যমে রাশিয়াকে সাহায্য করছে, তাতে মস্কোর যুদ্ধ রসদে টান পড়ছে না। ভারতের মতো রাষ্ট্রগুলি যদি রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ না করে, তাহলে তাদের উপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করাই সঙ্গত। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কাছে ভারতের পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক বলবৎ করার যে অধিকার রয়েছে, সেটা প্রয়োগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন জেলেনস্কি। এদিকে ভারত এবং রাশিয়া এই মন্তব্যের বিরোধিতা করেছে। দিল্লি ক্ষোভও প্রকাশ করেছে। কারণ ইউক্রেনের এই মন্তব্য দেশের ভাবমূর্তিকে আঘাত করছে। ভারত বলেছে, কোন দেশ থেকে আমজনতার স্বার্থে জ্বালানি ক্রয় করা হবে, সেটা সম্পূর্ণভাবে অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত। এখানে কোনো রাষ্ট্রই মতামত দিতে পারে না। আবার রাশিয়া বলেছে, রাষ্ট্রসঙ্ঘে গিয়ে ভারতকে এভাবে আক্রমণ করা নজিরবিহীন। ভারত যেটা ভালো বুঝবে সেটাই করবে। আর করছেও তাই। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভা প্রত্যেক বছরই সেপ্টেম্বর মাসে হয়ে থাকে। এবারও চলছে। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি এবার যাননি। আমেরিকার সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের অবনতি অন্যতম কারণ। আমেরিকা গ্রাহাম বিল পাশ করিয়ে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের খাঁড়া ঝুলিয়ে রেখেছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিও হচ্ছে না। মোদি আবার আমেরিকায় গিয়ে ট্রাম্পের কাছে কোনও অসম্মান পেতে রাজি নন। তাই রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভায় গিয়েছেন এস জয়শংকর।



