Bartaman Logo
৩০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ধৃৃত ‘ধনকুবের’ কাউন্সিলার, তোলাবাজির অভিযোগ, ৬ ঘণ্টায় জামিন

কলকাতার প্রাক্তন কাউন্সিলার শামস ইকবালকে তোলাবাজি অভিযোগে গ্রেপ্তার করে ৬ ঘণ্টার মধ্যে জামিন দিল আদালত। বিস্তারিত পড়ুন।

ধৃৃত ‘ধনকুবের’ কাউন্সিলার, তোলাবাজির অভিযোগ, ৬ ঘণ্টায় জামিন
  • ৩০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তোলাবাজি এবং অস্ত্র আইনের মতো জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তার হয়েও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জামিন মিলল কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার শামস ইকবাল ওরফে অনিল। মেটিয়াবুরুজের বাসিন্দা জনৈক মহম্মদ সাদাবের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাক্তন কাউন্সিলার শামস ইকবাল এবং চুড়ি ফিরোজ, মহম্মদ ফরাজ ওরফে বুনের বিরুদ্ধে রবিবার তোলাবাজি, হুমকির পাশাপাশি অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে গার্ডেনরিচ থানার পুলিশ। এই মামলার তদন্তে নেমে গার্ডেনরিচ থানার পুলিশ সোমবার সাত সকালে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ শামস ইকবালকে গ্রেপ্তার করে। কলকাতার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল এই খবর জানান। 

Advertisement

সোমবার আলিপুরের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট মৌমিতা রায়ের আদালতে শামসকে তোলা হলে, অভিযোগকারী মহম্মদ সাদাবের আইনজীবী সুব্রত সরদার হফলনামা পেশ করে জানিয়ে দেন, ‘শামস ইকবালের জামিনে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমস্যা মিটিয়ে নিয়েছি।’ যদিও সরকারি আইনজীবী শুভাশিস ভট্টাচার্য জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, ‘অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা হয়েছে। তাই আমরা জামিনের বিরোধিতা করছি। এক্ষেত্রে আদালত যা পদক্ষেপ করার করবে।’ দু’পক্ষের সওয়াল শেষে বিচারক এক হাজার টাকার বন্ডে শামস ইকবালকে জামিন দেন। গ্রেপ্তারের পর ছ’ঘণ্টার মধ্যে শামস ইকবালের জামিন মেলায়, তুমুল আলোড়ন শুরু হয়।  
কলকাতা পুরসভার এই প্রাক্তন কাউন্সিলার ‘ধনকুবের’ ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচিত। পরিচিত তাঁর রঙিন জীবনযাপনেও। কোটি কোটি টাকা দামের গাড়ি, পরিবার সমেত বিদেশ ভ্রমণ এবং ঝকঝকে লাইফস্টাইলে অভ্যস্ত তৃণমূলের এই যুবনেতা। বলিউড অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়ার সঙ্গে তাঁর একটি ছবি এখন রীতিমতো ‘ভাইরাল’। সম্প্রতি সোশাল মিডিয়াতে অনিলের একটি ছবি ‘ভাইরাল’ হয়েছে। যাতে দেখা যাচ্ছে, আর্ন্তজাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে প্রণাম করছেন তিনি। শামস ইকবালের বাবা মুন্না ইকবালও ছিলেন বন্দর এলাকার দাপুটে রাজনৈতিক নেতা তথা বরো চেয়ারম্যান। এলাকায় ‘চেয়ারম্যান সাহেব’ নামে পরিচিত ছিলেন মুন্না। ২০১২ সালে কলকাতা পুলিশের এসআই তাপস চৌধুরি খুনে প্রধান অভিযুক্তও ছিলেন তিনি। 
কী কী অভিযোগ রয়েছে মুন্না ইকবালের ছেলে শামসের বিরুদ্ধে?  কলকাতা পুলিশের এক সূত্র জানাচ্ছে, ‘ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের জুন মাসে। কাউন্সিলার অনিল ওরফে শামস ইকবাল, চুড়ি ফিরোজ, মহম্মদ ফরাজ এবং অন্য সঙ্গীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মেটিয়াবুরুজের বাসিন্দা মহম্মদ সাদাবকে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে ৭০ লাখ টাকা তোলা আদায় করা হয়েছে।’ সাদাব নিজেই পুলিশের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে যে চুড়ি ফিরোজের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, পুলিশ অফিসার তাপস চৌধুরি খুনের মামলায় আগে সে গ্রেপ্তার হয়েছিল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ