সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নাবালিকা বিয়ে করে শ্রীঘরে গেল মুরারইয়ের দুই যুবক। একজন মুরারইয়ের রাজগাঁর বাসিন্দা বিনোদ মাল ও অন্যজন কলিতোড়ার বিজয় ভুঁইমালি।
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নাবালিকা বিয়ে করে শ্রীঘরে গেল মুরারইয়ের দুই যুবক। একজন মুরারইয়ের রাজগাঁর বাসিন্দা বিনোদ মাল ও অন্যজন কলিতোড়ার বিজয় ভুঁইমালি।
শুক্রবার ধৃতদের রামপুরহাট আদালতের এসিজেএম কোর্টে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী মণিরুল হক বলেন, বিচারক ধৃতদের তিনদিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। আগামী সোমবার অভিযুক্তদের পকসো আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রেমের টানে বছর খানেক আগে ১৬ বছরের এক নাবালিকাকে বিয়ে করেছিলেন রামপুরহাটের রাজগাঁর বিনোদ মাল। মাস কয়েক পর গত ৩০ আগস্ট হঠাৎই শ্বশুরবাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় ওই নাবালিকা। নাবালিকার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ খোঁজ শুরু করে। সম্প্রতি সেই নাবালিকা বাড়ি ফিরে আসে। সে জানায়, এতদিন দিল্লিতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে লুকিয়ে ছিল সে। তদন্তে দেখা যায় নাবালিকা সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনার পরেই তৎপর হয়ে বৃহস্পতিবার রাজগাঁ থেকে অভিযুক্ত বিনোদকে গ্রেপ্তার করে মুরারই থানার পুলিশ।
দ্বিতীয় ঘটনায় বছর খানেক আগে কলিতোড়া গ্রামের ১৭ বছরের এক নাবালিকা ও ১৯ বছরের যুবক বিজয় ভুঁইমালির প্রেম প্রেম করে বিয়ে হয়। দুই পরিবার তাদের সম্পর্ক মেনে নেওয়ার পরই অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে ওই নাবালিকা। গত ২৬ সেপ্টেম্বর প্রসব যন্ত্রণা উঠলে তাকে রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরের দিন সে সন্তানের জন্ম দেয়।
হাসপাতালে প্রসূতির বয়সের নথি যাচাই করে দেখা যায় সে নাবালিকা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি প্রথমে রামপুরহাট থানায় জানায়। সেখান থেকে জানানো হয় মুরারই থানায়। পুলিশ পকসো আইনে মামলা রুজু করে। এদিকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর জেলের ভয়ে সদ্যোজাত সন্তান ও নাবালিকা স্ত্রীকে নিয়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গা ঢাকা দিয়েছিল বিজয়। বৃহস্পতিবার রাতে কলিতোড়া গ্রামের সেই আত্মীয়ের বাড়ি থেকে বিজয়কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে বাল্যবিবাহ ও নাবালিকা গর্ভধারণ রোধে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১৮ বছরের কম বয়সি কারও সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বা গর্ভধারণের ঘটনা ঘটলে পকসো আইনে ২০ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে। শুধু স্বামীই নন, পুরোহিত-কাজি বা বিয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ১ লক্ষ টাকা জরিমানা, জেল এবং পরিবারের সরকারি সাহায্য বাতিলের নির্দেশ জারি রয়েছে।