সংবাদদাতা, বোলপুর: একশো বছর পর ফের সুইডেনের মাটিতে রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে বড়োসড়ো আয়োজন। কবিগুরুর সুইডেন সফরের শতবর্ষ উপলক্ষ্যে একাধিক অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিয়েছে সে দেশের সরকার। সেই অনুষ্ঠানে শামিল হচ্ছে বিশ্বভারতীও। শুক্রবার কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে সাংবাদিক বৈঠকে একথা জানান বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ।
জানা গিয়েছে, নভেম্বরে বিশ্বভারতী থেকে দু’টি প্রতিনিধি দল সুইডেন যাবে। একটি সাংস্কৃতিক দল ও অন্যটি প্রদর্শনী নিয়ে যাবে। সেখানে কয়েকদিন ধরে নানান অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। এছাড়াও থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা পাঠ ও আলোচনা সভা। রবীন্দ্রনাথের জীবন ও ভাবনা নিয়ে সেখানে হবে প্রদর্শনী। দেখানো হবে শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতী নিয়ে তথ্যচিত্রও। সুইডেন সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করবে বিশ্বভারতী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কবি ও সাহিত্যিকদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পান রবীন্দ্রনাথ। তবে পুরস্কার গ্রহণের জন্য সেবার সুইডেন যেতে পারেননি তিনি। পরে সুইডিশ অ্যাকাডেমির আমন্ত্রণে ১৯২১ সালের মে মাসে সুইডেন গিয়েছিলেন কবি। সেবার তাঁর এই সফর ঘিরে যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়েও বক্তৃতা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। সুইডেনের সাংস্কৃতিক জগতের বিশিষ্টদের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর ১৯২৬ সালে ফের সুইডেন যান রবীন্দ্রনাথ। সে বার সুইডিশ অ্যাকাডেমির সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি সেখানে রেডিয়োয় কবিতা পাঠ করেন। সেই সফরেরই এবছর শতবর্ষ।
কবিগুরুর সঙ্গে সুইডেনের সম্পর্ক যে এখনও গুরুত্বপূর্ণ, চলতি বছরেও তার প্রমাণ মিলেছে। গত ১৭ মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুইডেন সফরের সময় তাঁকে রবীন্দ্রনাথের হাতে লেখা দু’টি কবিতার প্রতিলিপি উপহার দেন সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন। যার মূল নথি রয়েছে সুইডেনের জাতীয় আর্কাইভে। উপহারের সঙ্গে ছিল ১৯২১ সালে উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রনাথের সফরের একটি ছবিও। এর পাল্টা উপহার হিসেবে সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীর হাতে রবীন্দ্রনাথের ‘গীতাঞ্জলি’ ও সংগৃহীত রচনাবলীর সংকলন তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। পাশাপাশি শান্তিনিকেতনের কারিগরদের তৈরি একটি ব্যাগও সুইডিশ প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। ভারত ও সুইডেনের সম্পর্কও এ বছর নয়া মাত্রা পেয়েছে।
উপাচার্য প্রবীর ঘোষ বলেন, আচার্য তথা প্রধানমন্ত্রী মে মাসে সুইডেন গিয়েছিলেন। সেই সময় আলোচনা হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সুইডেন যাত্রার একশো বছর উপলক্ষ্যে একটি প্রোগ্রাম সিরিজ হবে। সেই মতো বিশ্বভারতীকে আবেদন করা হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা পাঠিয়েছি। অন্যদিকে, চিনের সঙ্গেও যোগাযোগ ফের চালুর আশা প্রকাশ করেন তিনি।