


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কালো-হলুদ ডোরা কাটা দাগ। রাজকীয় ঢঙে হাঁটাচলা আর গর্জন শুনতেই প্রতিবছর আলিপুর চিড়িয়াখানায় ছুটে যায় কচিকাঁচারা। সেই পশুশালাতেই জোড়া শোক! ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই বাঘিনির মৃত্যু হল আলিপুর চিড়িয়াখানায়। মৃত বাঘিনিদের নাম পায়েল ও রূপা। রূপা সাদা-কালো বাঘিনি। মঙ্গলবার মৃত্যু হয় পায়েলের। পরদিন মারা গিয়েছে রূপা। দুই বাঘিনির পরপর মৃত্যুতে রহস্য দানা বেঁধেছে।
আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত্যুকালে পায়েলের বয়স হয়েছিল ১৭ বছর। রূপা মারা গিয়েছে ২১ বছর বয়সে। বার্ধক্যজনিত কারণেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মত আলিপুর পশুশালার কর্তাদের। যদিও সূত্রের খবর, পরপর দুই বাঘিনির মৃত্যু নিয়ে খানিকটা সন্দিহান কর্তৃপক্ষও। তাই জোড়া মৃত্যুর জেরে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে চিফ ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ার্ডেন। আলিপুর পশুশালা জানিয়েছে, পায়েল ও রূপার মৃত্যুতে কেয়ারটেকারদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে বাঘিনিদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তার রিপোর্ট থেকেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। মৃতদের ভিসেরাও সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। পশু চিকিৎসকরা তা পরীক্ষা করবেন।
রূপার জন্ম আলিপুর চিড়িয়াখানাতেই। সাদা বাঘ অনির্বাণের মেয়ে সে। ২০০৪ সালে কলকাতাতেই ভুমিষ্ঠ হয় এই সাদা বাঘ। গত ২১ বছর ধরে দর্শকদের মন জুগিয়েছে রূপা। বনদপ্তর সূত্রের খবর, চিড়িয়াখানায় থাকলে বাঘেদের আয়ু সাধারণভাবে ১৫-১৭ বছরের মধ্যে ঘোরাফেরা করে। সেই তুলনায় অনেক বেশি দিনই চিড়িয়াখানার সঙ্গী ছিল এই পশুটি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত একবছর ধরেই বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিল রূপা। তার একটি পা পঙ্গু হয়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে, পায়েলকে ২০১৬ সালে ওড়িশার নন্দনকানন থেকে আনা হয়েছিল।