নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: দক্ষিণী সুপারস্টার পুষ্পারাজ ওরফে আল্লু অর্জুনকে সামনে থেকে দেখার সুযোগ মিলবে। সেই সঙ্গে মিলবে তেলুগু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ভালো কাজ। মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের দুই নাবালিকা ছাত্রীকে এমনই টোপ দিয়েছিল তাদের গ্রামের এক যুবক। সেই স্বপ্নে বিভোর হয়ে গত সোমবার বাড়ি ছেড়েছিল দুই নাবালিকা। হায়দরাবাদে পাচার হওয়ার আগেই ওই দুই নাবালিকাকে উদ্ধার করল শালিমার জিআরপি। এদিন তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেয় পুলিস। পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত অভিযুক্তদের ধরতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানার নবম শ্রেণির দুই ছাত্রী গত ৭ এপ্রিল সকালে স্কুলে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের খোঁজ না মেলায় দুই পরিবার থানার দ্বারস্থ হয়। দায়ের হয় মিসিং ডায়েরি। অবশেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুই ছাত্রীকে সাঁতরাগাছি স্টেশন থেকে উদ্ধার করে রেল পুলিস। কীভাবে দুই ছাত্রী বাড়ি থেকে এতদূর চলে এল? পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার হরিশ্চন্দ্রপুর থেকে প্যাসেঞ্জার ট্রেনে চেপে তারা মালদহ স্টেশনে এসে নামে। সেখান থেকে শিয়ালদহের জেনারেল টিকিট কেটে তিস্তা-তোর্সা এক্সপ্রেসে করে মঙ্গলবার সকালে শিয়ালদহ স্টেশনে আসে। সেখান থেকে কোনওভাবে সাঁতরাগাছি স্টেশনে এসে পৌঁছয় দুই নাবালিকা। পুলিস জানিয়েছে, সাঁতরাগাছি স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে বসে তারা বাড়ি ছাড়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছিল। উদ্বিগ্ন দুই নাবালিকার কথোপকথন শুনে ফেলেন পাশে বসে থাকা এক যাত্রী। সন্দেহ হওয়ায় তিনি সঙ্গে সঙ্গে স্টেশনে কর্তব্যরত রেল পুলিসকে বিষয়টি জানান। রেল পুলিস দুই নাবালিকাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে তারা। এরপর তাদের নিয়ে আসা হয় শালিমার জিআরপি থানায়।
পুলিসি জিজ্ঞাসাবাদে দুই নাবালিকা জানিয়েছে, তারা দু’জনেই দক্ষিণী সুপারস্টার আল্লু অর্জুনের অন্ধ ভক্ত। প্রিয় নায়ককে কাছ থেকে দেখার ইচ্ছা ছিল বহুদিনের। পাশাপাশি আর্থিক অনটনের কারণে ভালো কাজের প্রয়োজনও ছিল তাদের। গ্রামেরই এক যুবক তাদের হায়দরাবাদে নিয়ে গিয়ে আল্লু অর্জুনের সঙ্গে দেখা করানো ও সেখানকার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সুযোগ করিয়ে দেওয়ার টোপ দেয়। সেইমতো পরিবারের অলক্ষ্যে বাড়ি ছাড়ে তারা। সাঁতরাগাছি স্টেশনে তাদের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল সেই যুবকের। কিন্তু হায়দরাবাদগামী ট্রেনে ওঠার আগেই ওই যাত্রীর বুদ্ধিমত্তা ও পুলিসি তৎপরতায় পাচার চক্রের হাত থেকে বেঁচে যায় তারা। শালিমার জিআরপি হরিশ্চন্দ্রপুর থানার সঙ্গে যোগাযোগ করতেই সেখানকার পুলিস জানায়, দুই নাবালিকার নামে মিসিং ডায়েরি হয়েছে। রেল পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, ‘দুই নাবালিকাকে হায়দরাবাদে পাচার করার উদ্দেশ্যেই তাদের সাঁতরাগাছি স্টেশন পর্যন্ত নিয়ে আসা হয়েছিল। কে বা কারা এর সঙ্গে যুক্ত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।’ এদিন সকালে দুই নাবালিকার পরিবারের সদস্যরা এসে সুস্থ অবস্থায় তাদের বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যান। পুলিসি তৎপরতার কারণেই আজ মেয়ে দু’টি বেঁচে গেল, এমনটাই জানিয়েছে দুই পরিবার।