Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খড়গ্রামে শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের দুই শিক্ষিকাই বিএলও, বন্ধ পাঠদান

খড়গ্রামের গাঁফুল শিশুশিক্ষা কেন্দ্রে দু’জন মোটে শিক্ষিকা। দুজনকেই বিএলও হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

খড়গ্রামে শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের দুই শিক্ষিকাই বিএলও, বন্ধ পাঠদান
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: খড়গ্রামের গাঁফুল শিশুশিক্ষা কেন্দ্রে দু’জন মোটে শিক্ষিকা। দুজনকেই বিএলও হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। ফলে নভেম্বরের ৪ তারিখের পর থেকে কার্যত বন্ধ শিশুশিক্ষা কেন্দ্র। এনিয়ে অভিভাবকদের ক্ষোভ চরমে। সংশ্লিষ্ট বিএলওরা কাজ ছাড়তে চেয়ে সোমবার বিক্ষোভ দেখান খড়গ্রাম বিডিও অফিসে। যদিও খড়গ্রাম বিডিও মিলনী দাস বলেন, সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিএলওদের সাহায্য করার জন্য কাউকে দেওয়া যায় কি না, সেটা দেখা হচ্ছে।

Advertisement

এদিন খড়গ্রাম বিডিও অফিসে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিএলওদের নিয়ে একটি মিটিং ডাকা হয়েছিল। দুপুর নাগাদ ওই মিটিং শুরু হয়। কিন্তু মিটিং শুরুর পরেই বিএলওরা সভাস্থলেই ক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অনেকে তাঁদের উপর জোর করে কাজের দায়ভার চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। অনেকে আবার কাঁদতে শুরু করে দেন। মিটিং শেষ হতেই বিকেলের দিকে বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিএলওরা।
তবে এদিনের মিটিংয়ে এক কঠিন সমস্যার কথা শোনান গাঁফুল শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের দুই শিক্ষিকা। তাঁদের একজনের বয়স ৬২, অপরজনের ৬৩। তাঁরা পরিষ্কার জানান, বিএলওর কাজের জন্য নভেম্বরের ৪ তারিখের পর থেকেই কার্যত শিশুশিক্ষা কেন্দ্র বন্ধ। ছাত্রছাত্রীরা এসে ফিরে যাচ্ছে। কেন্দ্র বন্ধ থাকায় অভিভাবকরা বারবার তাঁদের কৈফিয়ত তলব করছেন। বিভিন্ন ভাবে তাঁদের হেনস্তা করা হচ্ছে। এক শিক্ষিকা অর্চনা মৌলিক মণ্ডল বলেন, কেন্দ্র বন্ধ রাখার জন্য এবার আমাদের অভিভাবকদের কাছে মার খেয়ে মরতে হবে। এর থেকে রাজ্য সরকার আমাদের তাড়িয়ে দিক, তাও ভাল। কিন্তু এই কাজ আমরা করতে পারব না। বাবার জন্মে কোনওদিন বড় মোবাইল ব্যবহার করিনি। সেটাও করতে হবে বলা হচ্ছে। বিএলও কাজের জন্য বাধ্য হয়ে আমাদের স্কুল বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কেন্দ্রের অপর শিক্ষিকা কনকা মণ্ডল বলেন, স্কুলে মাত্র দু’জন শিক্ষিকা। দুজনকেই বিএলওর কাজে নেওয়া হয়েছে। তার উপর মোবাইল নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছি। কিছুই করতে পারছি না। এই বয়সে কেন আমাদের বিপদে ফেলা হল, এটাই প্রশ্ন। স্থানীয় মহিষার গ্রামের শিক্ষক আব্দুল সাজ্জাদ বলেন, প্রথমে আমাদের ফর্ম বিলি ও জমা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এখন বলা হচ্ছে ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের কাজও করতে হবে। যে কাজে আমাদের অধিকাংশই অনভিজ্ঞ। এর একটা বিহিতের 
জন্য আন্দোলনে নামা।  সোমবার খড়গ্রাম বিডিও অফিসে বিএলওদের বিক্ষোভ। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ