সংবাদদাতা, মানবাজার: অভাবের সংসার, নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর মত অবস্থা। যেখানে দুবেলা খাবার জোগাড় করাই পরিবারের কাছে বড় লড়াই। সেই দারিদ্র্যকেই হার মানিয়ে এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় নজরকাড়া সাফল্য অর্জন করল মানবাজার থানার দুই কৃতী ছাত্র। গুড়তুপা গ্রামের জয়দেব বাউরি ও পেদ্দা গ্রামের কল্যাণ বাউরি। দিনমজুর ও রাজমিস্ত্রির পরিবারের এই দুই ছাত্রের নজরকড়া সাফল্যে এখন খুশির জোয়ার এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গুড়তুপা গ্রামের বাসিন্দা জয়দেব বাউরী এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৫৯৭ নম্বর পেয়ে এলাকায় সাড়া ফেলে দিয়েছে। চলতি বছরে ভ্রমরপুর হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক দিয়েছে জয়দেব। তার বাবা দিলীপ বাউরী ও মা নমিতা বাউরী দিনমজুরের কাজ করেন। সংসারের খরচ চালাতে কখনও ইটভাটায়, কখনও আবার রাইস মিলে কাজ করতে বাইরে যেতে হয় তাঁদের। অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী, কিন্তু ছেলের পড়াশোনায় কোনোদিন বাধা হতে দেননি বাবা মা। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী ছিল জয়দেব। তার এই সাফল্যের পিছনে স্কুল শিক্ষক ও কোচিং সেন্টারের শিক্ষকদেরও বড় ভূমিকা রয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার। নিয়মিত পড়াশোনা এবং শিক্ষকদের পরামর্শ মেনেই এই সাফল্য অর্জন করেছে সে। জয়দেব জানায়, মোবাইলে প্রায় তিন ঘণ্টা ক্লাস করতাম। মাঝে মধ্যে ভিডিও দেখলেও মোবাইলে বেশি আকৃষ্ট ছিলাম না। এত নম্বর পাব ভাবিনি। বাবা-মা ও প্রতিবেশীদের খুশি দেখে খুব ভালো লাগছে। তবে আর তিন নম্বর পেলে আরও ভালো হত। সে জানায়, তার পড়ার নির্দিষ্ট কোনো রুটিন ছিল না। বর্তমানে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়ে ভবিষ্যতে জয়েন্ট পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তার। জয়দেবের বাবা বলেন" আমি এতো কিছু জানি না, পাড়া প্রতিবেশী সবাই ছেলে ভালো ফল করেছে বলছে। জয়দেব বাংলায় ৯০,ইংরেজি ৭৬,অঙ্কে ৮৭,ভৌত বিজ্ঞান ৮০,জীবন বিজ্ঞান ৯২,ইতিহাস ৮২,ভূগোল ৯০ পেয়েছে।



