Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

বন্ধুত্বের গল্পে ‘দুই বেয়ান’

সম্পর্কটা কুটুম্বিতার। একজন মেয়ের মা, অন্যজন ছেলের মা। ছেলে-মেয়ের বৈবাহিক সূত্রে এই দুই পরিবারের মা হয়ে ওঠেন একে অপরের বেহান বা কথ্য বাংলায় বেয়ান।

বন্ধুত্বের গল্পে ‘দুই বেয়ান’
  • ১৩ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সম্পর্কটা কুটুম্বিতার। একজন মেয়ের মা, অন্যজন ছেলের মা। ছেলে-মেয়ের বৈবাহিক সূত্রে এই দুই পরিবারের মা হয়ে ওঠেন একে অপরের বেহান বা কথ্য বাংলায় বেয়ান। অথচ জীবনের একটা পর্যায়ে গড়ে ওঠা সম্পর্কটা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যতটা সম্মানের ততটা সুরভিত নয়। ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। এমনই দুই ব্যতিক্রমী বেয়ানকে নিয়ে একদা একটি ছোটগল্প ‘দুই বেয়ান’ লিখেছিলেন নবকুমার বসু। লন্ডন প্রবাসী ঋতু দ্বিতীয়বার সন্তানের মা হতে চলেছে। খুশির খবর জানিয়ে মাকে বিলেত চলে আসতে বলে মেয়ে। আসতে অনুরোধ করে শাশুড়ি মাকেও। প্রথম নাতির মত এবার আর একসঙ্গে নয়, আলাদা সময় দুই বেয়ান সদ্যোজাত নাতনির দেখাশোনা করে আসেন। একে অপরকে এড়িয়ে যাওয়ার সূক্ষ সাংসারিক সমীকরণ, আবার বয়স্ক দুটি মানুষের একাকিত্ব। তা থেকে দুই বেয়ানের সখ্য নিয়ে লেখা সেই গল্প নিয়ে কেমব্রিজ প্রবাসী নন্দন সেনগুপ্ত সম্প্রতি একটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি তৈরি করেছেন। এখনও পর্যন্ত গোটা বিশ্বের প্রায় পঞ্চান্ন হাজার বাঙালি ইউটিউবে দেখেছেন এই ছবি। 

Advertisement

হিন্দু স্কুল, স্কটিশ চার্চ কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নন্দন পেশায় কেমব্রিজের অ্যাঙ্গলিয়া রাসকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট-এর সিনিয়র প্রফেসর। নেশায় ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার। প্রথমে ‘দুই বেয়ান’ নিয়ে শ্রুতি নাটক করেন নন্দন। কেমব্রিজ থেকে ফোনে বললেন, ‘নাটক করার সময়ই দেখেছিলাম গল্পটায় বেশ কিছু সিনেম্যাটিক স্তর আছে। বিষয়টাও ভীষণ আটপৌরে, সংবেদনশীলও। এই ভাবনা থেকেই ছবি তৈরির সিদ্ধান্ত।’ লেখকের তরফ থেকে সবুজ সংকেত পেয়ে চিত্রনাট্য রচনার কাজে হাত দেন নন্দন। তখন ২০১৯। তারপরেই কোভিড। কাজ থমকালেও উৎসাহে ভাঁটা পড়েনি। পৃথিবী কোভিড মুক্ত হতেই দ্বিগুণ উৎসাহে কাজ শুরু করেন নন্দন। 
ছবির তিন অভিনেত্রী কেউই পেশাদার শিল্পী নন। মেয়ে ‘ঋতু’ চরিত্রের অভিনেত্রী অমৃতা থাকেন কেমব্রিজে। অন্য দুই অভিনেত্রী শ্রীময়ী কর পুরকায়স্থ ও সীমা চক্রবর্তীকে নিজেদের সন্তানদের সূত্রে কলকাতা-লন্ডন যাতায়াত করতে হয়। জীবনবোধ ও আন্তরিকতা দিয়ে উতরে গিয়েছেন তিনজনেই। নন্দনের স্বীকারোক্তি, ‘আমি ওয়াইল্ডলাইফ ভিডিও অনেক তুলেছি বটে, কিন্তু ক্যামেরায় গল্প বলা ভিন্ন বিষয়। আমি শখে পুরো কাজটা করেছি। করতে গিয়ে অনেক কিছু শিখেছি।’ ছবিটির সম্পাদনা, ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরও নিজে হাতে সামলেছেন নন্দন। শেষ পর্যন্ত দুই বেয়ানের সম্পর্কের মানবিক দিকটাই তুলে ধরতে চেয়েছেন পরিচালক। তাঁর কথায়, ‘দু’জন বয়স্ক মানুষের একে অপরের প্রতি নির্ভরতা, মানবিকতা, বন্ধুত্বটাকেই আমি বড় করে দেখাতে চেয়েছি।’
প্রিয়ব্রত দত্ত

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ