নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেউ বিয়ে করেননি। বৃদ্ধ বয়সে একে অপরের সঙ্গী দুই বোন। একসঙ্গেই থাকেন তাঁরা। এলাহি খাওয়া-দাওয়ায় বাংলা নববর্ষ পালন করতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে পড়লেন দুই ষাটোর্ধ্ব। গ্যাস লিক করে ভয়াবহ আগুনের জেরে ঝলসে গেলেন দু’জনই।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেউ বিয়ে করেননি। বৃদ্ধ বয়সে একে অপরের সঙ্গী দুই বোন। একসঙ্গেই থাকেন তাঁরা। এলাহি খাওয়া-দাওয়ায় বাংলা নববর্ষ পালন করতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে পড়লেন দুই ষাটোর্ধ্ব। গ্যাস লিক করে ভয়াবহ আগুনের জেরে ঝলসে গেলেন দু’জনই।
বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনই কড়েয়া রোডে দুর্ঘটনাটি ঘটে। জখম দুই বোনের নাম শিপ্রা সরকার (৬৩) ও শিলা সরকার (৬১)। মঙ্গলবার দুপুরে আড়াইটে নাগাদ আচমকাই বাড়ির একতলার রান্নাঘরে আগুন ধরে যায়। নিমেষে দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে গোটা রান্না ঘর। সিলিন্ডার বিস্ফোরণের হাত থেকে রক্ষা করতে রান্নাঘরে ছুটে যান ছোট বোন। তাঁকে বাঁচাতে যান দিদি। তখনই দু’জনের পোশাকে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কড়েয়া থানা ও দমকল বাহিনীর আধিকারিকরা। অচৈতন্য অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন দুই বোন। পুলিস সূত্রে খবর, দু’জনেরই শরীরের প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। বয়সের কথা মাথা রেখে আহতদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রেখেছেন চিকিৎসকরা।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিস জেনেছে, কড়েয়া রোডের ওই বাড়িতে থাকতেন অবিবাহিত দুই বোন। মঙ্গলবার সকাল থেকে বাড়িতে শুরু হয় রান্নাবান্না। দুপুর নাগাদ তা শেষ হয়। কিন্তু, কোনওভাবে ওভেনের আগুন বন্ধ করলেই গ্যাস লিক হতে থাকে। প্রাথমিকভাবে তা বুঝতে পারেননি দুই বোন। দেড়টা নাগাদ রান্না শেষের পর প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে গ্যাস বের হতে থাকে। এরপরেই কোনওভাবে আগুন ধরে যায় রান্না ঘরে। দুই বৃদ্ধার আর্তনাদে আতঙ্ক ছড়ায় প্রতিবেশীদের মধ্যে। তাঁদের অনেকেই ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। এলাকাবাসীরাই বাড়ির সদর দরজা ভাঙেন। দুই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর দেওয়া হয় দমকলে। একটি ইঞ্জিন যায় অকুস্থলে। প্রায় ঘণ্টাখানেকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রতিবেশী সঞ্জীব দাস বলেন, ‘দুই বোনের পরিবারে আর কেউ নেই। এদিন নববর্ষ পালন করার জন্যই বাড়িতে সকাল থেকে রান্না চলছিল। আমরাই জল দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। সঠিক সময়ে রান্নাঘর থেকে সিলিন্ডার বের করে আনা সম্ভব হয়েছে।’