নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বসন্ত উত্সবের মধ্যেই এসএফআইয়ের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক বচসায় জড়ালেন। বচসা একটা সময় ধাক্কাধাক্কিতে পরিণত হল। অন্যান্য পড়ুয়ারাই দুই পদাধিকারীকে অবশেষে থামান। এই ঘটনার পর আঞ্চলিক কমিটির সম্পাদক বেশ কিছুক্ষণ ক্যাম্পাসে প্রবেশই করতে পারলেন না। ক্যাম্পাসের ভিতরে তখন সভাপতি শির ফুলিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টা থেকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে বসন্ত উত্সবের আয়োজন করেছিল এসএফআই। বেলা ২টো নাগাদ পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বক্স বাজিয়ে আবির খেলা শুরু হয়। তার মাঝেই সভাপতি তাজবুল হক আর সম্পাদক মাল্যবান গঙ্গোপাধ্যায় ‘হাতাহাতি’তে জড়ান। তাজবুলের বক্তব্য, এসএফআইয়ের প্যাডে বিশ্ববিদ্যালয়কে কোনও চিঠি দেওয়া হয়নি। সম্পাদক নিজের ইচ্ছায় যা খুশি করছেন। সাধারণ পড়ুয়াদের নামে অনুমতি নেওয়া হয়েছে। আমি এখানে এসে জানতে পারলাম। শুধু আজ নয়, এমন অনেক কাজ নিজের মতো করছেন মাল্যবান। সম্পাদক তখন ক্যাম্পাসের বাইরে। তিনি বলছেন, বিরোধী দলের লোকজন ঢুকে পড়েছে। তাঁরাই এসব করাচ্ছে। সম্পাদকের পাল্টা দাবি, এসএফআইয়ের প্যাডেই অনুমতি নেওয়া হয়েছে। ঝামেলার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে এসএফআইয়ের এক সিনিয়র নেতাও চলে আসেন। তিনি দু’পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা করেন। যে কর্মসূচির প্রচার তাজবুল ও মাল্যবান মিলে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করেছেন, সেই উত্সব নিয়ে কেন ঝামেলা? সিপিএমের মতোই কি তবে পদ আঁকড়ে রাখার চেষ্টা? এই প্রশ্ন যদিও দু’পক্ষ উড়িয়ে দিয়েছে। আবার উত্সব শেষে দু’জনেই সামাজিক মাধ্যমে ছবি দিয়েছেন। সূত্রের খবর, ঝামেলা মিটেছে কি না, সেই খবর নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও।
ঝামেলার খবর এসএফআই রাজ্য দপ্তরেও এসেছে। রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। এর পিছনে বিরোধী দলের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। যদি সংগঠনের ভিতরে কিছু হয়ে থাকে, তবে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’