Bartaman Logo
৩ জুলাই, ২০২৬

দু’সেট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ৩ মাস্টারমাইন্ড, পাঁচ রাজ্যে ছড়িয়ে নিট দুর্নীতির জাল

যত দিন যাচ্ছে, নিটের প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। এ যেন সর্ষের মধ্যেই ভূত। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-র অন্দরেই লুকিয়ে ছিল চক্রীরা।

দু’সেট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ৩ মাস্টারমাইন্ড, পাঁচ রাজ্যে ছড়িয়ে নিট দুর্নীতির জাল
  • ১৮ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: যত দিন যাচ্ছে, নিটের প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। এ যেন সর্ষের মধ্যেই ভূত। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-র অন্দরেই লুকিয়ে ছিল চক্রীরা। ইতিমধ্যেই কিংপিন পি ভি কুলকার্নি, অন্যতম চক্রী মনীষা মানধারেকে পাকড়াও করেছে সিবিআই। রসায়ন ও উদ্ভিদবিদ্যার এই দুই অধ্যাপকের মাধ্যমেই নিটের দু’সেট প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এবার মিডলম্যান মনীষা ওয়াঘমারেকে কেন্দ্র করে চর্চা তুঙ্গে। জানা গিয়েছে, পুনের বিউটি পার্লারের মালকিন ওয়াঘমারেই দুই অধ্যাপককে পড়ুয়া জোগাড় করে দিয়েছিলেন। ইতিমধ্যে তাঁকে হেপাজতে নিয়েছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা ও বিহার। দুর্নীতির জাল ছড়িয়ে পাঁচ রাজ্যে। দুই মাথা ধরা পড়তেই এজেন্সির আতসকাচের নীচে এবার এনটিএ-র কর্তাব্যক্তিরাও। 

Advertisement

মনীষার কাছে ছিল উদ্ভিদবিদ্যা ও প্রাণীবিদ্যার প্রশ্নপত্র। আর পড়ুয়াদের রসায়নের প্রশ্নপত্র দিয়েছিলেন কুলকার্নি। এই পুরো অপারেশনে মিডলম্যান ছিলেন ওয়াঘমারে। পড়ুয়া জোগাড়, তাঁদের অধ্যাপকদের সঙ্গে যোগাযোগ করানোর পাশাপাশি গোপনে কোচিং ক্লাস চালানোয় সাহায্য করেছিলেন তিনি। বিউটি পার্লার চালাতেন ধৃত। কেউ বুঝতেও পারেননি পার্লারের আড়ালে চলছে লক্ষ লক্ষ টাকার ব্যবসা। কোচিং ক্লাস থেকে সেই প্রশ্ন ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। পিডিএফ বানিয়ে হোয়াটস অ্যাপ, টেলিগ্রামের বিভিন্ন মেসেজিং গ্রুপে চালান করে দেয় ডিস্ট্রিবিউটররা। মুহূর্তের মধ্যে নাসিক, গুরুগ্রাম, রাজস্থান হয়ে দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে প্রশ্নগুলি। 
তদন্ত সূত্রে খবর, এনটিএ থেকে মোট দু’টি সেটের প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হয়েছিল। একটি হাতে লেখা আর একটি ছাপানো। এক্ষেত্রে কমিটির আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে বলে অনুমান আধিকারিকদের। 
রবিবার এনিয়ে সরব হয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন—  ২০২৪ সালের মতো ২০২৬ সালেও প্রশ্নফাঁস হল। আবার সিবিআই তদন্ত। আবার আগের মতো কমিটি গঠন করা হবে। সেই একই পদ্ধতি। অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করা উচিত। মোদিজি গোটা দেশ আপনাকে কয়েকটি প্রশ্ন করছে। কেন বারবার প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে? পরীক্ষার এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের চর্চায় আপনি নীরব কেন? ব্যর্থ শিক্ষামন্ত্রীকে কেন বরখাস্ত করছেন না?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ