


নয়াদিল্লি: লুটিয়েন্স দিল্লির নিউ মোতিবাগ এলাকা। কেন্দ্রীয় সরকারের বহু শীর্ষ আমলার বাড়ি এই অঞ্চলে। স্বাভাবিকভাবে নিরাপত্তার বহরও বেশি। নিউ মোতিবাগে কয়েক বছর আগে তৈরি হয় সর্বাধুনিক মানের ক্রীড়া পরিকাঠামো। যার মধ্যে রয়েছে সুইমিং পুল, স্কোয়াশ, টেনিস ও ব্যাডমিন্টন কোর্ট, জিম ও বিলিয়ার্ড রুম। অনুমতি ছাড়া সাধারণ মানুষের প্রবেশ সেখানে নিষিদ্ধ। খালি চোখে দেখলে মনে হবে সব ঠিকঠাক। অভিজাত এলাকায় খেলাধুলোর এমন পরিবেশ থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেখানেই প্রদীপের নীচে অন্ধকার। দেশের শীর্ষ আমলা ও তাঁদের পরিবারের জন্য তৈরি সেইসব সুইমিং পুল বা টেনিস কোর্টের টাকা এসেছে দেশের ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়নের বরাদ্দ থেকে! যে টাকা একজন অ্যাথলিটের প্রশিক্ষণ বা স্টেডিয়াম সংস্কারের কাজে ব্যবহার হওয়ার কথা, সেই টাকায় চলেছে আমলাদের বিলাসিতা! এমন ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই দেশের ক্রীড়ামহলে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের অন্দরেও।
দেশে খেলাধুলোর উন্নতিতে তৈরি হয়েছিল ন্যাশনাল স্পোর্টস ডেভেলপমেন্ট ফান্ড বা এনএসডিএফ। সেরা অ্যাথলিটরা যাতে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা পান, তার জন্য অর্থ বরাদ্দ করাই ছিল এনএসডিএফের উদ্দেশ্য। টার্গেট ওলিম্পিকস পোডিয়াম স্কিম (টপস) বা খেলো ইন্ডিয়ার মতো প্রকল্পেও এই ফান্ড থেকে টাকা বরাদ্দ হয়। তথ্যের অধিকার আইনে যে নথি মিলেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, ২০১৯ সালে খেলো ইন্ডিয়া প্রকল্প থেকে ২ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা নিউ মোতিবাগে ক্রীড়া পরিকাঠামো তৈরির জন্য বরাদ্দ করা হয়। ২০২৪ সালে আরও ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ওই সব পরিকাঠামো সংস্কারের জন্য এনএসডিএফ থেকে বরাদ্দ করা হয়। এছাড়া ক্রীড়ামন্ত্রকের তথ্য বলছে, ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এনএসডিএফের জন্য বরাদ্দ হয়েছিল ৬ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে ৬ কোটি ২০ লক্ষ টাকাই চলে গিয়েছে সিভিল সার্ভিসেস অফিসার্স ইনস্টিটিউট, সেন্ট্রাল সিভিল সার্ভিসেস কালচারাল অ্যান্ড স্পোর্টস বোর্ড এবং মোতিবাগের জন্য। একই সময়কালের মধ্যে অন্য এক বরাদ্দ থেকে রাজস্থান ও ছত্তিশগড়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) অনুমোদিত দু’টি সংগঠনও ২ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা পেয়েছে। শুধু তাই নয়, এনএসডিএফের মাধ্যমে স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (সাই) মালদ্বীপ, জামাইকা এবং সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড গ্রেনাডাইন্স ক্রিকেট বোর্ডকে ১ কোটি ৮ লক্ষ টাকা ‘উপহার’ হিসাবে দিয়েছে। অথচ ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে এনএসডিএফের জন্য বরাদ্দ হয়েছিল ৮৫ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা একধাক্কায় কমে হয়েছে ৩৭ কোটি ২ লক্ষ টাকা।
ক্রীড়া পরিকাঠামোর টাকা এভাবে আমলাদের বিলাসিতার জন্য ব্যবহার নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে ক্রীড়া সংক্রান্ত সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটি। ২০২৫ সালের আগস্টে লোকসভায় এই নিয়ে একটি রিপোর্ট পেশ করে কমিটি। তাতে খেলার জন্য বরাদ্দ টাকা এভাবে আবাসিক এলাকা ও আমলাদের সংগঠনকে দেওয়া নিয়ে আপত্তি তোলা হয়। যদিও নিউ মোতিবাগ রেসিডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুধাংশু পান্ডের দাবি, সরকারি নিয়ম মেনেই সব টাকা বরাদ্দ হয়েছে। তাঁদের এলাকায় যে ক্রীড়া পরিকাঠামো রয়েছে, তাতে সাইয়ের অনুমোদন রয়েছে। সরকারি আবাসিক এলাকায় খেলাধুলা সামগ্রিক ক্রীড়া পরিকাঠামোরই অঙ্গ। যদিও সরকারি টাকায় তৈরি সেই পরিকাঠামো কেন সাধারণ মানুষ ব্যবহার করতে পারেন না, সে উত্তর দেননি তিনি।