নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: দ্বারকেশ্বর নদে স্নানে নেমে মৃত্যু হল দুই স্কুল পড়ুয়ার। অসুস্থ হন আরও একজন। সোমবার দুপুরে আরামবাগের কালীপুর সংলগ্ন রেল ব্রিজ এলাকার এই ঘটনায় প্রবল চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দারা নদী থেকে দুই কিশোরকে উদ্ধার করে পাড়ে নিয়ে আসেন। পরে আরামবাগ থানার পুলিশ গিয়ে তাদের আরামবাগ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম দেবরাজ ধারা ও সুমন ভক্ত। দেবরাজ আরামবাগ শহরের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। অন্যজন, সুমন আরামবাগ বয়েজ হাই স্কুলের দশমের ছাত্র। মর্মান্তিক এই ঘটনায় পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে।
অসুস্থ হয়ে আরামবাগ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে শুভদীপ কুমার টুডু। সে-ও ইংরেজি মাধ্যম স্কুলেরই ছাত্র। শুভদীপের বাড়ি আরামবাগের কোর্টপাড়া এলাকায়। এদিন বিকেলে হাসপাতালের বেডে শুয়ে শুভদীপ বলে, এদিন আমরা স্কুলে যাইনি। বাড়ি থেকে রেল ব্রিজে ঘুরতে যাই। আমি সাইকেল নিয়ে যাই। ওরা দু’জন আমার পিছনে হেঁটে রেল ব্রিজের কাছে যায়। সেখানে ঘোরাঘুরির পর সুমন আর দেবরাজ বলে স্নান করব। আমি নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু ওরা জলে নেমে পড়ে। তারপরই ওরা ডুবে যেতে থাকে। দেবরাজকে ডুবে যেতে দেখে সুমন বাঁচাতে যায়। কিন্তু সুমনও তলিয়ে যাচ্ছিল। সেই দৃশ্য দেখে আমিও বাঁচাতে যাই। কিন্তু পারিনি। কোনোভাবে জল থেকে পাড়ে উঠে স্থানীয়দের ডাকাডাকি করি। তারপর বাকিরা এসে ওদের জল থেকে উদ্ধার করে। চোখের সামনে দুই বন্ধুর মৃত্যু দেখে প্রচণ্ড আতঙ্কে রয়েছি। বাঁচাতে পারলাম না বলে খুব আফসোসও হচ্ছে।
স্থানীয় এক মহিলা বলেন, ওই তিন স্কুল পড়ুয়া স্নান করতে নেমে তলিয়ে যায়। একটি ছেলে আমাদের ডাকছিল। আমরা রেল ব্রিজ দিয়ে আসার পথে ঘটনা দেখে অন্যদেরও ডাকাডাকি করি। আরামবাগের ওই ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের পরিচালন কমিটির সম্পাদক অশোক নন্দী বলেন, ওই পড়ুয়ারা স্কুলে আসেনি। খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নিয়েছি। আমাদের মনে হয়েছে পড়ুয়াদের শুধুই পঠনপাঠন নয়, মানসিক গঠনের ক্ষেত্রেও প্রত্যেককে দায়িত্ব নিতে হবে। আমরা এই ঘটনার পর স্কুলে ছয়জন মেন্টাল হেলথ কাউন্সিলার নিয়োগ করছি। তাঁরা প্রত্যেক পড়ুয়ার মানসিক অবস্থার খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।