নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: প্রায় ৭৩ লক্ষ টাকা খরচ করে শ্রীরামপুরে দু’টি রাস্তা বানাচ্ছে পুরসভা। সঙ্গে একটি নিকাশিনালাও তৈরি করা হবে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, রাস্তা দু’টি নির্মাণের ক্ষেত্রে সমস্যা আছে। সেকারণেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। কী সেই সমস্যা? জানা গিয়েছে, দু’টি রাস্তাই জিটি রোডকে সংযোগ করেছে। কিন্তু নানা কারণে জিটি রোড ওই দু’টি রাস্তা থেকে উঁচু। তার জেরে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি, জল জমে যাওয়ার কারণে রাস্তার বেহাল দশা হয়েছে। ফলে, রাস্তা দু’টি নতুন করে সংস্কারের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের খটিরবাজার বাসস্টপ থেকে গোয়ালাপাড়া পর্যন্ত একটি রাস্তা তৈরি করা হবে। সেখানে নিকাশি নালাও নতুন করে তৈরি করা হবে। ওই কাজের জন্য ২০ লক্ষ ৮ হাজার ৫৫৭ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে শ্রীরামপুর হাউজিং এস্টেটের সামনের রাস্তাটি নতুনভাবে গড়া হবে। ওই রাস্তার জন্য ৫৩ লক্ষ ৯৩ হাজার ৪ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এনিয়ে শ্রীরামপুর পুরসভার সিআইসি সদস্য সন্তোষ সিং (পাপ্পু) বলেন, সংস্কারের ফলে জিটি রোড আগের তুলনায় উঁচু হয়ে যাওয়ায় এই দু’টি রাস্তা অনেকটাই নিচু হয়ে গিয়েছে। ফলে যানবাহন চলাচল থেকে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। যেকারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। বৃষ্টির সময় জিটি রোডের জল ওই ঢালু রাস্তা দিয়ে হু হু করে ঢুকছে এলাকায়। এমনকী, বাসিন্দাদের ঘরেও ঢুকে পড়ছে জল। এখন রাস্তা দু’টিকে জিটি রোডের লেভেল-এ আনতে হলে নতুন করে তৈরি করতে হবে। সেই সঙ্গে সুষ্ঠু নিকাশির ব্যবস্থাও নতুন করে করতে হবে। জিটি রোডের সংযোগকারী রাস্তা হওয়ায় এই দুই রাস্তায় যানবাহনের চাপ বেশি থাকে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ব্যবহার করেন এই দুই রাস্তা। সেকারণেই নির্মাণকাজে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পুরসভার চেয়ারম্যান গিরিধারী সাহা বলেন, ২৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষ তো বটেই, অন্যান্য জায়গা থেকেও ওই দুই রাস্তা নিয়ে অভিযোগ আসছিল। আমরা এ নিয়ে পরিকল্পনা করে টাকা বরাদ্দ করেছি। পুর চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। শ্রীরামপুরের বাসিন্দা সমাজকর্মী সমীর সাহা বলেন, ওই রাস্তা দু’টি খুবই জনপ্রিয়। তাই দ্রুত কাজ শেষ হলে নাগরিকদের ভোগান্তি কম হবে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যয়বহুল এই রাস্তা দু’টি নির্মাণের জন্য সম্প্রতি রাজ্যের কাছে সাহায্য চেয়ে পুরসভা প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। মে মাসের শেষপর্বে সেই প্রস্তাব অনুমোদন করে আর্থিক সাহায্য মঞ্জুর করেছে রাজ্য সরকার।