নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে হাতির হানা ক্রমশ সহ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। বুধবার বছর উনিশের এক যুবকের হাতির হানায় মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার সকালেই ঝাড়গ্ৰামের সাতপাটি এলাকায় মঙ্গল মুর্মু (৩৪) নামে আরএক যুবকের হাতির হানায় মৃত্যু ঘটে। পরপর দু’দিনে দুই যুবকের মৃত্যু ঘিরে গ্রামে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সচেতনতা বাড়াতে ঝাড়গ্ৰম বনবিভাগ গ্ৰামে গ্ৰামে এবার হাতি নিয়ে তথ্যচিত্র দেখানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। ঝাড়গ্ৰামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, হাতির হানা রুখতে সবরকম পদক্ষেপ করা হচ্ছে। সচেতনতা বাড়াতে গ্ৰামে, গ্ৰামে তথ্যচিত্র দেখানো হবে।
ঝাড়গ্ৰামে হাতির হানায় মৃত্যু থামানো যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রক ২০২৪ সালে হাতির হানায় মৃত্যুর পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। হাতির হানায় মানুষের মৃত্যুতে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাংলা। প্রথম স্থানে ওড়িশা। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ঝাড়খণ্ড। ঝাড়খণ্ড ও পার্শ্ববর্তী দুই রাজ্যের বিস্তীর্ণ জঙ্গল এলাকা জুড়ে রয়েছে হাতির পালের বিচরণ ভূমি। ঝাড়খণ্ডের দলমা পাহাড় থেকে আসা হাতির পাল আগে জঙ্গলমহল এলাকায় বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্ৰামের সাঁকরাইল, নয়গ্ৰাম, পড়শি রাজ্য ওড়িশা হয়ে দলমা পাহাড়ে ফিরে যেত। সেই ছবি গত দু’দশকে কিন্তু বদলেছে। জঙ্গলমহলের মধ্যে হাতি এখন রয়ে যাচ্ছে। রাজ্য সরকার হাতির নিরাপদ বিচরণ ক্ষেত্র গড়ে তুলতে ময়ূরঝর্ণা প্রকল্প গড়ার উদ্যোগ নেয়। দেড় দশক ধরে সেই ফাইল বন্ধ হয়ে রয়েছে। পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজে জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় রাস্তাঘাট সহ নানা নির্মাণ হয়েছে। জনবসতির বৃদ্ধি মানুষ ও হাতির সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে। বনবিভাগের তরফে জামবনী ও বেলপাহাড়ীতে বনাঞ্চল বাড়ানোর কাজ চলছে। হাতির নজরদারিতে বসেছে এ আই ক্যামেরা। ঝাড়গ্রামের জঙ্গল এলাকায় এলিফ্যান্ট ট্র্যাকারস টিম রয়েছে। নজরদারি বনবিভাগের ঐরাবত গাড়িও নজরদারি চালাচ্ছে। কিন্তু এত কিছু করেও হাতির হানায় মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
ঝাড়গ্রাম বনবিভাগ এলাকায় ২০২২-২৩ সালে ২৮ জন, ২০২৩-২৪ সালে ১৭জন, ২০২৪-২৫সালে ১০ জনের মৃত্যু হয়। বাড়িঘর ভাঙচুর ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতিও থামানো যায়নি।
ঝাড়গ্ৰাম বনবিভাগের এক কর্তা বলেন, সাতপাটি এলাকায় এদিন বনবিভাগের কর্মীরা ছিলেন। হাতির কাছ থেকে দূরে থাকার জন্য স্থানীয় মানুষকে বলা হচ্ছিল। কিন্তু তারপরেও কিছু মানুষ হাতির কাছে চলে যান। যার জেরে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। হাতি নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে সে কারণে গ্ৰামে, গ্ৰামে তথ্যচিত্র দেখানো হবে। গ্রামবাসীরা তথ্যচিত্রে হাতির গতিবিধির বাস্তব ছবি দেখতে পাবেন। আশা করছি এই উদ্যোগে বাড়বে সচেতনতা। ঝাড়গ্ৰামের এক পরিবেশ কর্মী এদিন বলেন, বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপির সরকার রয়েছে। ফলে ঝাড়গ্ৰাম ও পার্শ্ববর্তী দুই রাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে এক পরিকল্পনা প্রয়োজন। তবে নতুন রাজ্য সরকারকেই সেই উদ্যোগ নিতে হবে।



