নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চুঁচুড়া পুরসভা এলাকায় জমাজলের সমস্যা মেটাতে দু’টি স্থায়ী পাম্পিং স্টেশন তৈরি করতে চাইছে পুরসভা। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করে পাঠানো হয়েছে পুরদপ্তরে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চুঁচুড়া পুরসভা এলাকায় জমাজলের সমস্যা মেটাতে দু’টি স্থায়ী পাম্পিং স্টেশন তৈরি করতে চাইছে পুরসভা। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করে পাঠানো হয়েছে পুরদপ্তরে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এখানকার নিকাশি ব্যবস্থা অনেকগুলি বিষয়ের উপরে নির্ভর করে চলে। তার মধ্যে একটি, পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের ভৌগলিক অবস্থান ও ভূমিরূপ। চুঁচুড়ার আট ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সঙ্গে আরও একাধিক এলাকার আকার একটি বাটির মতো। নিকাশি ব্যবস্থার স্বাভাবিক পথে সেখান থেকে জল বের করা সম্ভব নয়। আবার সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে যাওয়ার সমস্যাও এড়ানো যাবে না। ওই এলাকাগুলির জন্য স্থায়ী পাম্পিং স্টেশন পুরসভা তৈরি করতে চাইছে।
পুরকর্তাদের একাংশ দাবি করেছে, ওই পদ্ধতি খুবই কার্যকরী। কারণ হুগলি জেলারই অন্য একটি পুরসভা ওই পদ্ধতিতে জল জমার সমস্যা অনেকটাই মিটিয়ে ফেলেছে। হুগলির শ্রীরামপুরে ওই রকমের ব্যবস্থা আছে। সেই পথেই চুঁচুড়ার নাগরিকদের ভোগান্তি দূর করতে চাইছেন পুরকর্তারা। পুরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল জয়দেব অধিকারী বলেন, আমরা নানাভাবে চেষ্টা করে দেখেছি। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার বাগান, মিলিটারি কলোনির মতো এলাকার সমস্যা মেটানো যায়নি। কারণ ভূমিরূপের একটি বিচিত্র প্রভাব সেখানে আছে। শহরের বেশ কিছু ওয়ার্ড বাটির মতো আকার নিয়ে আছে। অর্থাৎ পাশের এলাকা থেকে অনেকটা নিচু। তাতেই সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে গিয়ে বিপত্তি হয়। বাসিন্দাদের ভোগান্তি সইতে হচ্ছে। আমরা পাম্প ব্যবহার করে জল বের করে দিই। কিন্তু স্থায়ী পাম্পিং স্টেশন হলে ভোগান্তি শূন্য হয়ে যাবে। সেই কারণেই রাজ্য পুরদপ্তরের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অমিত রায় বলেন, চুঁচুড়া পুরসভার নিকাশি ব্যবস্থা এমনিতেই প্রাচীন এবং জটিল। তার উপরে কিছু ভৌগলিক গঠনের কারণে আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়। এবার আমরা স্থায়ী সমাধান খুঁজছি। কারণ নাগরিকদের উন্নত পরিষেবা দেওয়ার দায়বদ্ধতা আমাদের আছে। আধুনিক সময় জল জমার সমস্যার উত্তর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, এটা হতে পারে না। তাই স্থায়ী পাম্পিং স্টেশনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। চুঁচুড়া আঞ্চলিক ইতিহাসের চর্চাকার সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পুরসভার পরিকল্পনা অত্যন্ত ভালো এবং আধুনিক। ভূমিরূপ কেমন হবে তার নিয়ন্ত্রণ তো আর মানুষের হাতে থাকে না। পুরসভা দ্রুত ভোগান্তির স্থায়ী সমাধান খুঁজে পেলে শহরের নাগরিক হিসেবে আনন্দই পাব।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের তিন, আট, ১৬ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের গড়ন বাটির মতো। কিন্তু সেই ভূমিরূপের কারণে জল জমার সমস্যার কবলে পড়তে হয় আশপাশের আরও অনেকগুলি ওয়ার্ডকে। শহরের ধরমপুর, ইঞ্জিনিয়ার বাগান, কাপাসডাঙা, মিলিটারি কলোনি, সেগুনবাগান, পিরতলার মতো জনবহুল এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছেন। এবার তারই স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা পুরসভা নিয়েছে।